প্রায় তিন বছর পর আবারও প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকা—উভয়ের মাধ্যমে পাঠদান হয়, সেসব বিষয়ে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে যেসব বিষয়ে কেবল শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যকর থাকবে; তবে কোনো পরীক্ষা হবে না।
আবার এদিকে, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ স্তরে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পরিচালিত বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ। এছাড়া যেসব বিষয়ে শুধু শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান হয়, সেসব বিষয়ে ১০০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নই বহাল থাকবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মো. সাফায়েত আলম গণমাধ্যমকে জানান, এনসিসিসির সভায় প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভার কার্যবিবরণী পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে বলে আরও জানা গেছে। তবে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
সময়ের আলো/কেএইচও