শেখ রবিউল আলম রবি ঢাকা-১০ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি। গত ৩৩ বছর ধরে তিনি এই এলাকায় রাজনীতি করে আসছেন। রোববার সময়ের আলোর সঙ্গে তিনি নির্বাচন ও সমসমায়িক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি।
সময়ের আলো :
ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনি কেমন সাড়া পাচ্ছেন?শেখ রবিউল আলম : মানুষের সাড়ার বিষয়টি শুধু ভালো না, প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। তবে আমি এটিকে শুধু সাড়ার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি না। কারণ আমার সঙ্গে এই এলাকার মানুষের সম্পর্কটা ভোটের রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমি এই এলাকায় ৩৩ বছর ধরে রাজনীতি করছি। এই দীর্ঘ সময়ে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছি, আবার মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছি। পাড়া-মহল্লা, অলিগলি সব জায়গাতেই আমার রাজনৈতিক বিচরণ ছিল। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে আমার একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এলাকার মানুষ মনে করে, সব পরিস্থিতিতে আমি তাদের পাশে ছিলাম। সে কারণেই তারা নিজেরাই দায়িত্ব নিয়েছে আমাকে নির্বাচিত করার। এই নির্বাচনে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রচার-প্রচারণায় সরব উপস্থিতি এবং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সশরীরে ভোট দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প, সব মিলিয়ে আমি মনে করি, ধানের শীষকে বিজয়ী করার দায়ভার তারা নিজেরাই কাঁধে তুলে নিয়েছে।
আপনি ২০২০ সালে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এবারও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই দুই নির্বাচনের পরিবেশ আপনি কীভাবে তুলনা করবেন?
২০২০ সালের নির্বাচন প্রকৃত অর্থে কোনো নির্বাচনই ছিল না। সেটি ছিল সাজানো, পাতানো নিয়মরক্ষার একটি উপনির্বাচন। নির্বাচনের আগেই ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত ছিল। আর এবারকার নির্বাচন হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায়। এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতি তখন এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, জনগণের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। এই নির্বাচন সেই সংকট থেকে উত্তরণের একটি পথ। এবার জনগণের ক্ষমতায়ন, প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। এই দুটি নির্বাচন তুলনাযোগ্যই নয়। একটি ছিল ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রার্থীকে সংসদে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা, আর এটি হচ্ছে জনগণের দ্বারা প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রকৃত প্রক্রিয়া।
এই আসনের বড় সমস্যা হিসেবে পরিচ্ছন্নতা, যানজট, পানি ও গ্যাস সংকটের কথা বলা হয়। নির্বাচিত হলে এগুলোর সমাধান কীভাবে করবেন?
আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটি শুধু ঢাকা-১০ আসনের সমস্যা নয়, পুরো ঢাকা শহরের সমস্যা। তবে এ আসনেও এর প্রভাব ভয়াবহ। মূল সংকটটা হচ্ছে সেবা খাতগুলোর অকার্যকারিতা। সেবা খাতে যাদের রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার কথা, তাদের কোথাও সক্ষমতার অভাব, কোথাও আবার সক্ষমতা থাকলেও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। এর ফলে সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি গ্যাস সংকট নিয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে তিনবার গিয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, এই এলাকার পাইপলাইনগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ। নির্বাচিত সরকার এলে প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সংযোগ সম্প্রসারণ, মেরামত ও রিপ্লেসমেন্ট করা গেলে মানুষ স্বাভাবিকভাবে গ্যাস পাবে। সিটি করপোরেশনের অবস্থা আরও করুণ। কার্যত কোনো নির্বাচিত মেয়র বা জনপ্রতিনিধি নেই। শুধু হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হচ্ছে, কিন্তু সেবার অস্তিত্ব নেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নির্বাচিত সরকার ও নির্বাচিত সিটি করপোরেশন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্র ছাড়া নাগরিক সেবা ফেরানো সম্ভব নয়।
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন না হওয়া নিয়েও মানুষের অভিযোগ আছে?
অবশ্যই আছে। তবে এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। একজন সংসদ সদস্যের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তার কাজ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় রাখা। যদি নীতি নির্ধারণের বিষয় হয়, তা হলে সংসদে তা আলোচনায় আনা। আর যদি বাস্তবায়নের বিষয় হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা। এই ভূমিকাগুলোই একজন এমপির আসল দায়িত্ব।
অনেকেরই অভিযোগ, মাদক ও চাঁদাবাজি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় হয়। আপনি জনপ্রতিনিধি হলে এগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় মাদক-চাঁদাবাজি হতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে হচ্ছে না। ভবিষ্যতেও হওয়ার সুযোগ নেই। রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হবে। মাদকের ক্ষেত্রে কামরাঙ্গীরচরে অভিযোগ বেশি, হাজারীবাগে কম। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি, একটি রোগ। এটিকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। আমার এখানে তিনটি স্পষ্ট পরিকল্পনা আছে। প্রথমত, যেকোনো মূল্যে মাদক বিক্রি বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত পরিবার ও সমাজকে সচেতন করে নতুন করে যেন কেউ মাদকাসক্ত না হয় তা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত যারা ইতিমধ্যে আসক্ত, তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। কারণ আপনি যদি মাদকাসক্তি কমাতে না পারেন, তা হলে শুধু বিক্রি বন্ধ করে সমস্যার সমাধান হবে না।
চাঁদাবাজির বিষয়ে?
আমি গত দুই মাসে প্রায় ৬০০ মতবিনিময় সভা করেছি। সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ কেউ করেনি। তবে ফুটপাথে দোকান বসানো নিয়ে এক ধরনের অবৈধ সমঝোতার সংস্কৃতি আছে। এই সমঝোতাগুলো বন্ধ করতে হবে। ফুটপাথ দখল বন্ধ হলে এই অবৈধ লেনদেনও বন্ধ হবে। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়, আমি ব্যবস্থা নেব।
নির্বাচিত হলে কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেবেন?
আমি চাই উপযুক্তভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে। আমাদের দেশে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত মেম্বার অব পার্লামেন্টরা শেষ পর্যন্ত জনগণের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। কিন্তু আপনি যদি সংসদে এবং সরকারে দুই জায়গাতেই এই অঞ্চলের জনগণের যথোপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব দিতে পারেন, তা হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এখানে কোনটা আগে, কোনটা পরে সেটি বড় কথা নয়। মূল কথা হলো প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা আপনার আছে কি না? প্রথমেই দেখতে হবে এলাকার জনগণের সমস্যাগুলো আপনি নিজে ধারণ করেন কি না, সেগুলো চিহ্নিত করেন কিনা এবং সেগুলো সমাধানের জন্য আপনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কি না। যদি এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেন, তা হলে অবশ্যই এই রাষ্ট্রে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব। কিছু বিষয় আছে যেগুলো সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থে নীতি-নির্ধারণী স্তরের। সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি সংসদে সক্রিয় থেকে সরকারের নীতি-নির্ধারণে সহায়তা করতে চাই। অথবা সরকারের আমলে আনতে বিষয়টি তুলে ধরে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য সজাগ ও সক্রিয় থাকতে চাই।
৫ আগস্ট যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, একটা পক্ষ সবসময় দাবি করে যে শুধু তারাই ছিল। এই গণঅভ্যুত্থানে আপনাদের ভূমিকাটা কী ছিল?
আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলাম। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধান সমন্বয়কারী। এটি আমার সৌভাগ্য এবং অর্জন যে পুরো গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে আমি নেতৃত্ব দিয়েছি, সমন্বয় করেছি, আন্দোলনকে জোরালো করেছি এবং বিজয় নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছি। এই গণঅভ্যুত্থান সব দল, পেশার মানুষের যৌথ অর্জন। পুরো জাতির অর্জন। আর এই অর্জন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে গত ১৭ বছর ধরে সব পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। আমার বিরুদ্ধে ১৯৩টি মামলা ছিল। ৯ বার গ্রেফতার হয়েছি। চার বছর তিন মাস জেল খেটেছি। ৭৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম। চার দিন গুম হয়েছিলাম। ধানমন্ডির মতো এলাকায় যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিজের বাড়ি, বাবার বাড়ি, কার্যালয়, সেখানেও আওয়ামী লীগের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমার সামর্থ্যরে শতভাগ দিয়ে লড়াই করেছি। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক চরিত্র থেকে ফ্যাসিবাদী চরিত্রে পরিণত হয়েছে। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তারা চরম ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছে। তখনই গণঅভ্যুত্থান অপরিহার্য হয়েছে। পুরো জাতির অংশগ্রহণে তা সফল হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি নির্লজ্জভাবে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান এভাবেই হয়। জুলুম-অত্যাচারের একটা পর্যায়ে জাতি দায়িত্ব নিয়ে নেয়। কৃতিত্ব তাদের, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই সরকারকে মোকাবিলা করে সমাপ্তির পথে নিয়ে এসেছে। আমরা সেই শক্তি। ১৭ বছর ধরে লড়াই করার শক্তি। আমরা দমন, নিপীড়ন, গুম, হেফাজতে হত্যার শিকার হয়েছি। কিন্তু লড়াই থামেনি। শেষ পর্যায়ে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে। রাজনৈতিক দল শুরু করেছে, জনগণ শেষ করে সফল করেছে। আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। জনগণ আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিজয় এনে দিয়েছে। এটি জাতির অর্জন।
বিভিন্ন জরিপে বলা হচ্ছে, তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। আপনার মতে তিনি দেশের জন্য কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবেন? তার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা কেমন হবে?
তারেক রহমান মূলত দেশে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে চান। বিশেষ করে রাজনীতির মান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায়। তিনি রাজনীতিকে জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। তিনি বাস্তবায়নের সক্ষমতাও রাখেন। তারেক রহমানের দলের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং জনগণের মধ্যেও তার প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। এই আস্থার পেছনে বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী দর্শনের ভিত্তিতে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন, আর খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারেক রহমান সাংগঠনিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে তিনি দল পরিচালনা করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তার সাংগঠনিক নেতৃত্বেই বিএনপি ক্ষমতায় আসে। নেতাকর্মীরা তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ, কারণ তিনি শৃঙ্খলা ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিকে গুরুত্ব দেন। যখন একজন নেতার প্রতি জনগণের আস্থা থাকে, দলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে তখন পরিবর্তন সম্ভব হয়। তারেক রহমান সেই পরিকল্পনা আগেই দিয়েছেন। ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র বিনির্মাণের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি জানেন কী করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে। সে কারণেই আমার বিশ্বাস, তিনি এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে পারবেন। শুধু আমার নয়, এ বিশ্বাস দেশের জনগণের মধ্যেও ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে।
তারেক রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালিয়েছেন। আপনি নিজেও যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, আপনি কি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান করছেন?
আমি প্রথম দিন থেকেই প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করছি। আমার ভিডিও ও বক্তব্য দেখলেই বিষয়টি বোঝা যাবে। এটি কোনো গোপন বিষয় নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত আমাদেরই প্রস্তাবনা। আমরা সাড়ে তিন বছর আগেই সংবিধান সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং সেবা খাতের সংস্কারের কথা বলেছি। রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের যে দাবি, সেটিও আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারেরই অংশ। সে কারণেই আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি এবং তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি, যেখানে অনেকে স্বাক্ষর করেনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রতিষ্ঠা করাকে আমরা আমাদের দায়িত্ব মনে করি। আমরা শুধু ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থক নই, আমরা এর প্রবক্তাও। দলের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান আগেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। নমিনেশন পাওয়ার পর প্রার্থীদের একাধিক ধাপে ডেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালোভাবে প্রচার চালিয়ে এটিকে বিজয়ী করতে হবে। সে কারণে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ নিয়ে কৃত্রিম বিতর্ক তৈরির চেষ্টা মূলত মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। যারা এই বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তারা জাতির মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করে দেশকে সংকটে ফেলতে চায়। এ ধরনের শক্তি জাতির কল্যাণ চায় না এবং তারা কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক শক্তিও নয়।
আপনার নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অনুসারীর সংখ্যাও কম নয়। আপনি নির্বাচিত হলে তাদের প্রতি আপনার আচরণ কেমন হবে?
যারা ফৌজদারি অপরাধ, গণহত্যা কিংবা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর হামলার সঙ্গে যুক্ত এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণযোগ্য অভিযোগ আছে, তাদের বিচার রাষ্ট্রীয়ভাবে অবশ্যই হতে হবে। এখানে কোনো আপসের সুযোগ নেই। তবে যারা এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, যারা গণহত্যা বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারা যে দল বা মতেরই হোন না কেন, আমি তাদের দেশের সাধারণ জনগণ হিসেবেই দেখি। প্রত্যেক নির্দোষ নাগরিকের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। কাউকে নিপীড়ন বা হয়রানি করা যাবে না। সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপির অবস্থানও এখানেই স্পষ্ট যে, নির্দোষ কেউ তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। কিন্তু অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। বিচার না হলে সেটি আরেক ধরনের অবিচার হবে। এই রাষ্ট্রে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, আবার কেউ পরিত্যক্তও নয়। রাষ্ট্রের যেমন অধিকার আছে, তেমনই জবাবদিহিতাও আছে। সেই ভারসাম্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।