আরব সাগরে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ড্রোনটি তাদের একটি বিমানবাহী রণতরীর দিকে ধেয়ে আসছিল।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাসে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর সুরক্ষার স্বার্থে ইরানি ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, রণতরী থেকে এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ড্রোনটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন রণতরীর দিকে ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ এগিয়ে আসছিল।
বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ড্রোনটি রণতরীর দিকে আসা অব্যাহত রাখায় সেটিকে ভূপাতিত করা হয় বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ভূপাতিত ড্রোনটি ‘শাহেদ-১৩৯’ মডেলের ছিল বলে শনাক্ত করেছে তারা। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম দেশটির একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা তাদের ড্রোনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার আগ পর্যন্ত রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) কাছে সফলভাবে তথ্য পাঠাচ্ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তেহরান।
সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, এরই মধ্যে ড্রোন ভূপাতিত করার খবর এল।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলার হুমকি দেওয়ার পর রণতরীটি ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার জেরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জানান, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ন্যায্য ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে’ আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, আগামী শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তুরস্ক বা ওমান এই আলোচনার আয়োজক হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এদিকে মঙ্গলবার অন্য এক ঘটনায় সেন্টকম অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দুটি বোট এবং একটি ড্রোন দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি জাহাজ তাদের জলসীমায় ঢুকে পড়ায় সেটিকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
/ইউএমএইচ