গাজার গণহত্যায় সহায়তায় দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে দুই ইসরায়েলি নারী, নিলি কুফার-নাউরি ও

2026-02-04T10:51:28+00:00
2026-02-04T10:51:28+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
গাজার গণহত্যায় সহায়তায় দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সে গ্রেফতারি পরোয়ানা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫১ এএম 
ফরাসি-ইসরায়েলি নিলি কুফার-নাউরি (বাঁয়ে) এবং র্যাচেল তিউতু (ডানে) গাজা গণহত্যায় তাদের ভূমিকার কারণে ফ্রান্সে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি।
ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে দুই ইসরায়েলি নারী, নিলি কুফার-নাউরি ও র‍্যাচেল তিউতু-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। কট্টরপন্থী এই দুই নারী একই সঙ্গে ফ্রান্সের নাগরিকও।

ফরাসি সংবাদপত্র লে মঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও ত্রাণবাহী ট্রাকের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের নভেম্বরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হওয়ার পর মানবিক সহায়তার প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিলি কুফার-নাউরি একজন ফরাসি-ইসরায়েলি আইনজীবী এবং ‘ইসরায়েল ইজ ফরএভার’ নামের সংগঠনের প্রধান। তিনি ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নীতি ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। অন্যদিকে র‍্যাচেল তিউতু ‘তসাভ ৯’ নামের সংগঠনের মুখপাত্র, যা গাজায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিতে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ফরাসি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

কুফার-নাউরি গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিপদ হলো আমি হয়তো আর কখনোই ফ্রান্সে যেতে পারব না। কারণ, ফরাসি কারাগারে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। তিনি আরও জানান, ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও ফ্রান্সে তদন্ত চলছে।


ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আল-হক’ এবং আরও কিছু ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন এই দুই নারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ আগে ‘আল-হক’-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। 

মানবাধিকারকর্মীরা গাজায় চলমান সংকটকে মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে ত্রাণ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা গণহত্যার অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গাজায় ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলা কিশোরদের ছবি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর মানবিক সংস্থাগুলো এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

গাজায় এই সংকটের ফলে ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ত্রাণ ও চিকিৎসা সরবরাহের উপর বিধিনিষেধ মানুষের জীবন এবং নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, এমন ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এমন একটি পদক্ষেপ যা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং গাজার মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নজরকাড়া। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের জন্যও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   গাজা  গণহত্যা  ইসরায়েলি নারী  ফ্রান্স 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: