৪৫০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্র, ইউক্রেনে রাশিয়ার বৃহত্তর হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রায় চার বছরের

2026-02-04T09:46:14+00:00
2026-02-04T15:19:21+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
৪৫০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্র, ইউক্রেনে রাশিয়ার বৃহত্তর হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৬ এএম  আপডেট: ০৪.০২.২০২৬ ৩:১৯ পিএম
রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে। সংগৃহীত ছবি
রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রায় চার বছরের যুদ্ধে এর আগে কখনও একসঙ্গে এত বড় আকারে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৫০টি দূরপাল্লার ড্রোন এবং ৭০টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে ছিল রেকর্ডসংখ্যক ৩২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এসব হামলায় ইউক্রেনের অন্তত পাঁচটি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড। বিশেষ করে সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার, টারবাইন ও জেনারেটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে নিশানা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল শীতের সবচেয়ে কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ, গরম পানি ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা।

হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট ইউক্রেন সফরে কিয়েভে অবস্থান করছিলেন। পাশাপাশি, এর ঠিক পরদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে মার্কিন মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনার কথা ছিল। ফলে এই হামলাকে অনেকেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন।

ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি ডিটিইক জানিয়েছে, চলতি বছরে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ। অক্টোবর মাসের পর থেকে তাদের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এটি ছিল নবম বড় হামলা। এসব হামলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া কূটনীতির চেয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, কিয়েভে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল, আর হামলার দিন তা ছিল প্রায় মাইনাস ১৬ ডিগ্রি। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ ও গরম না থাকলে মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ে।

তিনি ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর আহ্বান জানান এবং রাশিয়ার ওপর সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার কথা বলেন। উল্লেখ্য, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হয়েছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট ইউক্রেনীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে বলেন, শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও ন্যাটো দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক ও নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে যাবে। তিনি জানান, গত গ্রীষ্মের পর থেকে ফ্রন্টলাইনে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো থেকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তাই ন্যাটোর নিরাপত্তা।


অন্যদিকে, ক্রেমলিনের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে প্রচণ্ড শীতের কারণে রাশিয়া ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহ কিয়েভে বিমান হামলা বন্ধ রেখেছিল। তবে শীত অব্যাহত থাকলেও পরে আবার হামলা শুরু করা হয়।

কিয়েভের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন এবং একটি গ্যাস স্টেশন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো বলেন, হামলার পর সকালে কিয়েভের প্রায় ১ হাজার ১৭০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গরমের ব্যবস্থা ছিল না। পরে জরুরি মেরামতের মাধ্যমে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ ও গরমের সুবিধা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা এলাকাতেও রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেঝনা জানান, কিয়েভে অবস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস সংক্রান্ত জাতীয় জাদুঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক, কারণ একদিকে রাশিয়া অতীতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্মৃতিকে ধ্বংস করছে, অন্যদিকে বর্তমান সময়ে নিজেরাই একই ধরনের আগ্রাসন চালাচ্ছে।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ইউক্রেন রাশিয়া  ৪৫০ ড্রোন  ৭০ ক্ষেপণাস্ত্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: