২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় একটি মামলা হয়েছিল।
মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়।
বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
গ্রেফতারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন তাকে ৪৮ ঘণ্টার কারাবাসে থাকতে হয়। অবশেষে সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া।
সম্প্রতি রুম্মান রশিদ খানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হওয়া এবং পরবর্তী দুদিনের জেলজীবন তার জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনিয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।
‘জেলার থেকে শুরু করে সেখানকার সবাই এত সহানুভূতি ও ভালোবাসার সঙ্গে ব্যবহার করেছে, যেটা ভাবতে পারিনি। সবাই আমাকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে। আমি দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে, সকালে দেখেছি রুটি ছিঁড়ে মিষ্টিকুমড়া দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে।’
আমার যতটুকু মনে আছে, আমার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। তাদের আমি চিনিও না। জীবনে আর কখনো তাদের সঙ্গে দেখা হবে কি না, তাও জানি না।
কয়েক দিনের কারাভোগ তার জীবনে এনে দেয় এমন অভিজ্ঞতা, যা বদলে দিয়েছে মানুষের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি। এই সময়টাতেই ভেঙে যায় তার প্রেমের সম্পর্কও। জেল থেকে বের হওয়ার পর প্রেমিক আর যোগাযোগ করেননি।
ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও দূরে সরে যান, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলেন ছবি। ওই ৪৮ ঘণ্টায় বুঝেছি, কে আমার আপন, কে পর।
এখনও মামলাটি চলমান; প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হয় ফারিয়াকে। শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ তিনি—তবে এই ঘটনার পর অনেকে তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
সময়ের আলো/এআর