কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি মাদরাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এ নীতিমালায় বেসরকারি মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য সরকার নতুন করে আবশ্যকীয় শর্তাবলি নির্ধারণ করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এমপিও নীতিমালা বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এমপিও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্বীকৃতি, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থী ও পাসের হারসহ একাধিক বিষয় বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে এমপিওভুক্তির অনুকূলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করতে হবে।
এবার নীতিমালায় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ট্রাস্ট বা সংস্থা পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়টি। বলা হয়েছে, ট্রাস্ট বা সংস্থা পরিচালিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট বা সংস্থার পূর্বানুমোদন ছাড়া এমপিওভুক্ত করা হবে না। আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়, এমপিওভুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসাকে অবশ্যই বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক হালনাগাদ স্বীকৃতি বা অধিভুক্তি প্রাপ্ত হতে হবে। পাশাপাশি নীতিমালার পরিশিষ্ট ‘ক’ অনুযায়ী প্রাপ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।
শিথিলযোগ্য প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য মাদরাসার ক্ষেত্রে নীতিমালার পরিশিষ্ট ‘খ’ অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষায় পরিশিষ্ট ‘গ’ অনুযায়ী কাম্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী এবং ন্যূনতম পাসের হার অর্জন করতে হবে।
এছাড়া সরকার অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ থাকতে হবে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড অথবা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ’র সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে এবং এনটিআরসিএ’র আওতাবহির্ভূত পদে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর নির্ধারিত পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগ থাকতে হবে।
এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও অধিভুক্তির শর্ত পূরণ করলেই এমপিওভুক্তি নিশ্চিত হবে না। সরকারের আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।
/এমএইচআর