জীবন রক্ষাকারী ওর্যাল স্যালাইন আমদানি শুল্কের বিভ্রান্তিতে পড়েছে। আর এই বিভ্রান্তির ফলে আমদানি শুল্ক নিয়ে সংকটের মুখে পড়েছে ওর্যাল স্যালাইন। স্যালাইনের জন্য অ্যালুমিনিয়াম ডাস্টের আমদানি শুল্ক ওষুধ শিল্পের রেয়াতি হারে পাওয়ার কথা। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অপব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে রেয়াতি হারে শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, ওর্যাল স্যালাইনের ‘পিই ফিল্ম কমবেট অ্যান্ড অ্যালুমিনিয়াম ডাস্ট’ কাঁচা শিল্পটি ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর কর্তৃক ব্লক লিস্টে অন্তর্ভুক্ত। আর ব্লক লিস্টে থাকা কাঁচামাল ওষুধ শিল্পের রেয়াতি হারে আমদানি শুল্ক পাওয়ার কথা। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিষয়টি নিয়ে অপব্যাখা দিয়ে শুল্ক রেয়াতি দিচ্ছে না।
জানা গেছে, এই কাঁচামালটি বাংলাদেশের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন কোম্পানি আমদানি করছে। এর মধ্যে এসিআই, এসএমসি, রেনেটা, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল। এ ব্যাপারে নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক বিখ্যাত কোম্পানির পরিচালক জানিয়েছেন, এই পণ্যটি ওর্যাল স্যালাইনের প্যাকেজিং কাজে ব্যবহার হয়। এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। পণ্যটি ডোজ প্রিন্ট হয়ে চীন থেকে রোল আকারে আসে, যা প্রত্যেক কোম্পানির ওর্যাল স্যালাইন প্রস্তুতকারীরা আমদানি করেন। ডোজ মুদ্রিত থাকার কারণে এর অপব্যবহার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
জানা গেছে, এই ধরনের উন্নতমানের ওর্যাল স্যালাইনের জন্য উপযোগী পণ্য বাংলাদেশে কেউ উৎপাদন করতে পারে না। আর উৎপাদন করতে না পারার কারণে পণ্যটি আমদানি করা হয়। তবে যে পরিমাণ আমদানি করা হয় এর চাইতে অনেক বেশি পণ্যটির ওষুধ শিল্পে চাহিদা রয়েছে। এখন চাহিদা অনুযায়ী আমদানি করার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ আমদানি শুল্ক ধরা হয়েছে তা শুধু কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভোক্তারা।
সামনে গ্রীষ্মকাল আসছে। বিভিন্ন কারণে ওর্যাল স্যালাইনের চাহিদা বাড়বে। আর চাহিদা অনুপাতে বাজারে সেই পরিমাণ সরবরাহ না থাকলে দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।
জানা গেছে, দেশের অন্যতম ওর্যাল স্যালাইনের কাঁচামালের আমদানিকারক সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টাসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে নির্দিষ্ট এইচএসকোডে (কোড নম্বর ৩৯২১.৯০.৯৯) অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আবেদন করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কোডে সমজাতীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু পেট অ্যান্ড অ্যালুমিনিয়াম ডাস্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বর্তমানে এই কাঁচামালের অস্বাভাবিক আমদানি শুল্ক হওয়ার কারণে উৎপাদনকারীরা তাদের উৎপাদন ক্রমশ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামীতে বাজারে স্যালাইন সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন হয়নি তা বোধগম্য নয়। তবে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বিবেচনা করা যেতে পারে।