ঋত্বিক কুমার ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিচালক, অভিনেতা। ১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুরেশচন্দ্র ঘটক ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কবি ও নাট্যকার; মা ইন্দুবালা দেবী। তার বড় ভাই মণীশ ঘটক একজন অধ্যাপক, লেখক। তা ছাড়া তিনি দোভাগা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মী মহাশ্বেতা দেবী মণীশ ঘটকের মেয়ে।
ঋত্বিক ঘটকের লেখাপড়া শুরু হয় ময়মনসিংহের মিশন স্কুলে। পরে কলকাতার বালিগঞ্জ স্কুলে তিনি ভর্তি হন। ১৯৫৮ সালে তিনি বাহরামপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করেন।
পরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু তিনি এমএ কোর্স সম্পন্ন করেননি, কারণ তার মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সার্টিফিকেট অর্জন করার চেয়ে একজন লেখক হওয়া অনেক বেশি গৌরবের। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি দেশ, শনিবারের চিঠি, অগ্রণী বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখির কাজ করেন। অল্প সময়ের মধ্যে লেখক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।
ঋত্বিক ঘটকের নবান্ন ১৯৪৮ সালে প্রকাশ হয়। এ নাটকটির মাধ্যমে তিনি খ্যাতি লাভ করেন। নাগিনী কন্যার কাহিনি উপন্যাস অবলম্বনে তিনি ১৯৫১ সালে বেদিনী ছবি নির্মাণ করেন। ছবিটিতে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি দলিল নাটক নির্মাণ করেন।
১৯৫৫ সালে তিনি ‘গ্রুপ থিয়েটার’ নামে নাট্যদল গঠন করেন এবং তার সাঁকো নাটকটি মঞ্চস্থ করেন। ঋত্বিক ঘটকের ব্যবসা সফল ছবি অযান্ত্রিক। তা ছাড়া তার সবচেয়ে ব্যবসা সফল হিন্দি ছবি মধুমতি। এটি ভারতের প্রথম দিকের অন্যতম একটি ছবি। ছবিটি ফিল্মফেয়ার সেরা গল্প পুরস্কার অর্জন করে।
ঋত্বিক ঘটক আটটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো—মেঘে ঢাকা তারা, বাড়ি থেকে পালিয়ে, কমলগান্ধার।
২০১০ সালে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট কর্তৃক তার তিতাস একটি নদীর নাম শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে দশম স্থান অধিকার করে। তার শেষ ছবি যুক্তি-তক্ক আর গল্প, এটি আত্মজীবনীমূলক। ঋত্বিক ঘটক অসংখ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। ছবি পরিচালনা এবং স্ক্রিপ্ট লেখার পাশাপাশি তিনি বেশসংখ্যক নাটক ও ছবিতে অভিনয়ও করেছেন।
১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।
এফআর