সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথভাবে তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচি ‘কান’ (Kaan) উৎপাদনে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসর ও সৌদি আরব সফর শেষে তুরস্কে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোয়ান জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হচ্ছে এবং এই অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে আঙ্কারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ‘কান’ প্রকল্পে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যৌথ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে, যা যেকোনো সময় বাস্তবায়িত হতে পারে।
তুরস্ক ২০১০ সাল থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। তবে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ার পর ‘কান’ প্রকল্পের গতি আরও বেড়ে যায়। ওই সময় রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ব্যয়বহুল এই যুদ্ধবিমান প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদার খুঁজছে তুরস্ক। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুনে ইন্দোনেশিয়া ‘কান’ যুদ্ধবিমান কেনার জন্য তুরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া ৪৮টি যুদ্ধবিমান কিনবে, যার মোট মূল্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। ১০ বছরের এই চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়ায় ‘কান’-এর কিছু যন্ত্রাংশ যৌথভাবে উৎপাদনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
এছাড়া কাতার, আজারবাইজানসহ আরও কয়েকটি দেশ এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘কান’-এর প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন হয়। ওই সময় বিমানে অস্থায়ীভাবে দুটি জেনারেল ইলেকট্রিক এফ১১০-জিই-১২৯ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়, যা বর্তমানে তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
‘কান’ কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা তুর্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (টিএআই) এই যুদ্ধবিমানের জন্য নিজস্ব দেশীয় ইঞ্জিন উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে গত বছর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ‘কান’ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত এফ১১০-জিই-১২৯ ইঞ্জিন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছিল।
টিএআইয়ের লক্ষ্য ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ তুরস্কের বিমানবাহিনীর কাছে প্রথম ‘কান’ যুদ্ধবিমান হস্তান্তর করা। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই সময়সীমা পিছিয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘কান’ ব্লক-১ সংস্করণের প্রথম ১০টি যুদ্ধবিমান ২০৩০ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে তুরস্কের বিমানবাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হতে পারে।
/ইউএমএইচ