জাপানে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

জাপানের সঙ্গে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) সই করল অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তির অধীনে তৈরি পোশাকসহ প্রায় সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য

2026-02-06T15:52:41+00:00
2026-02-06T15:52:41+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
জাপানে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম   (ভিজিট : ১৭১)
টোকিওতে ইপিএ সই করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ছবি: সংগৃহীত
জাপানের সঙ্গে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) সই করল অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তির অধীনে তৈরি পোশাকসহ প্রায় সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানি বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বিনিময়ে ঢাকাও এক হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্যকে পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দেবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) টোকিওতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও নিজ নিজ সরকারের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করল সরকার।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই ইপিএ চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক দলিল নয়, এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ।’

চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলেও আশা করেন তিনি।

ইপিএ চুক্তিটি পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ঢাকা ও টোকিওতে প্রায় সাত দফা দরকষাকষির ফলাফল। গত ২২ ডিসেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎশু বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের (বিজেইপিএ) নেগোসিয়েশন শেষ হওয়ার যৌথ ঘোষণা দেন।

চুক্তি অনুযায়ী, তৈরি পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক খুব সহজে জাপানে রপ্তানি করা যাবে। পাশাপাশি জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানে আরও কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপ-খাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।

২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের প্রাথমিক ধাপে ১৭টি সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশন পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ দুই দেশ ইপিএ নেগোসিয়েশন শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ।

সে অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ থেকে ২৩ মে ঢাকায় প্রথম রাউন্ডের নেগোসিয়েশন হয়। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ায় সে বছর ১০-১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় দ্বিতীয় ধাপ ও ১৯-২০ ডিসেম্বর টোকিওতে তৃতীয় রাউন্ড নেগোসিয়েশন হয়।

এরপর গত বছর ২-৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ রাউন্ডের নেগোসিয়েশন। ২০২৫ সালের ২০ থেকে ২৬ এপ্রিলে টোকিওতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম রাউন্ডের নেগোসিয়েশনে দুই পক্ষ জরুরি ভিত্তিতে চুক্তির শর্ত এগিয়ে নিতে জোর দেয়।

ঢাকায় ইপিএর ষষ্ঠ রাউন্ড নেগোসিয়েশন হয় ২১-২৬ জুন। এ ধাপেই চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে। এরপর গত বছরই ৩ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর টোকিওতে সপ্তম ও চূড়ান্ত রাউন্ড নেগোসিয়েশন হয়।

/এমএইচআর 



  বিষয়:   জাপান  বাংলাদেশ  শুল্ক 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: