যমুনায় নাব্যতা সংকট, নৌ চলাচলে ব্যাহত

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। এ কারণে ক্ষীণ হয়ে এসেছে নদী। নদীর মাঝে নতুন নতুন

2026-02-06T20:04:55+00:00
2026-02-06T20:04:55+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
যমুনায় নাব্যতা সংকট, নৌ চলাচলে ব্যাহত
রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম 
পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় হেঁটেই পার হচ্ছে নদী। ছবি : সময়ের আলো
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। এ কারণে ক্ষীণ হয়ে এসেছে নদী। নদীর মাঝে নতুন নতুন চর জেগে ওঠায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকা চলাচলেও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। শুষ্ক মৌসুমে যমুনায় নাব্য হ্রাস পাওয়ায় এখন প্রস্থ দুই কিলোমিটার। যা বর্ষায় থাকে প্রায় সাড়ে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। যমুনায় পানি কমে যাওয়ায় নদীর বুকজুড়ে কৃষকরা এখন বোরো ধান, ভুট্টা, খেসারি কালাই ও চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসল চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যমুনা নদীতে নেমে আসে বালু। ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে প্রতি বছর। এ কারণে বর্ষায় যমুনার পানি ফুলেফেপে উঠে পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে তীব্র নদীভাঙন দেখা দেয়। অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়া নৌপরিবহনে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। প্রতি বছর যমুনার তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে হারাতে বসেছে তার অতীত ঐতিহ্য। এক সময় দূর-দূরান্ত থেকে নৌ-পথে সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি, এনায়েতপুর ও চৌহালীতে ব্যবসায়ীরা আসত বাণিজ্য করার জন্য। সেই দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়ে না। যমুনা নদীতে এখন পানি কমে যাওয়ায় নতুন নতুন চর ওঠার কারণে চৌহালী থেকে এনায়েতপুর নৌঘাট হয়ে জেলা সদরে যাতায়াতে শ্যালো নৌকায় ১ ঘণ্টার বদলে এখন প্রায় ৩ ঘণ্টা সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগে। জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেলেও শ্যালো নৌকা চলছে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার ঘুরে।


চৌহালী উপজেলার অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে অগণিত মানুষ জেলা শহরে যাতায়াত করে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চরাঞ্চলের অসংখ্য ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন যমুনা হয়ে লেখাপড়া করতে যায়। কিন্তু জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে একদিকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে নদী পার হতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে তাদের কর্মঘণ্টা।

সিরাজগঞ্জ কোর্ট চত্বরে কথা হয় চৌহালী থেকে আসা সবুজ আকন্দের সঙ্গে। তিনি বলেন, মামলা জনিত কারণে মাঝে মধ্যেই সিরাজগঞ্জ কোর্টে আসতে হয়। চৌহালী থেকে এনায়েতপুর নৌঘাট হয়ে জেলা সদরে আমাদের যাতায়াতে করতে হয়। যমুনা নদীতে এখন পানি না থাকায় শ্যালো নৌকায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চৌহালী থেকে এনায়েতপুর নৌঘাট হয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে ১ ঘণ্টার বদলে প্রায় ৩ ঘণ্টা সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগে। দেরি করে কোর্টে আসলে কোনো কাজই হয় না। তাই একদিন আগে এসে শহরে একটি হোটেলে ৫০০ টাকা রুম ভাড়া নিয়ে রাতে ছিলাম। এতে আমাদের একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে। তেমনি খরচও বেড়ে যাচ্ছে।


এনায়েতপুর নৌকা ঘাটের ইজারাদার ইউসুফ আলী জানান, যেভাবে নদীর পানি কমছে, তাতে নৌকা চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এখন ড্রেজিং করে নৌপথ তৈরি করা না হলে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে জেলা সদরের সঙ্গে নৌপথের চৌহালীর যাবতীয় কর্মকাণ্ড স্থরিব হয়ে পড়বে। 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, নদী খনন ও নাব্যতার বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ-র আওতাধীন। তারাই এ ব্যাপারে কি করণীয় বলতে পারবে। আমরা শুধু ভাঙনের বিষয়টি দেখি।

সময়ের আলো/জোআই/




  বিষয়:   যমুনা নদী  নাব্যতা সংকট  নৌ চলাচল  সিরাজগঞ্জ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: