নড়াইলের মাঠজুড়ে এখন শুধুই সাদার হাতছানি। শীতের এ সময়ে জেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে শোভা পাচ্ছে সারি সারি ফুলকপি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়ায় জেলার কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নড়াইল জেলাজুড়ে ২২৭ হেক্টর জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ। জেলার সদর উপজেলা, লোহাগড়া ও কালিয়া এই তিন উপজেলাতেই বাণিজ্যিকভিত্তিতে প্রচুর পরিমাণে ফুলকপির চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ক্ষেত থেকে কপি সংগ্রহ ও তা বাজারজাত করতে। এবার স্নোবক্স ও হাইব্রিড জাতের কপির আবাদ বেশি হয়েছে। প্রতিটি কপির আকার ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় পাইকারি বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
সদর উপজেলার কৃষক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, আল্লাহর রহমতে এবার ফলন খুব সুন্দর হয়েছে। সময় মতো সেচ ও সার দেওয়ায় এবার বড় কোনো রোগবালাই আক্রমণ করতে পারেনি। খরচও তুলনামূলক কম হয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত বাজারের এই দাম বজায় থাকে, তবে কৃষকরা বড় অংকের লাভের মুখ দেখব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে নড়াইলে ফুলকপি চাষ এখন বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে। অনেক শিক্ষিত যুবকও এখন সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
তবে নড়াইলের বাজারে বর্তমানে সবজির সরবরাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় ফুলকপির দাম দ্বিগুন হয়েছে। প্রান্তিক চাষিদের খেতে এখনও যে পরিমান কপি রয়েছে তাতে ব্যাপক লাভবান হবেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি তদারকি থাকলে ফুলকপি চাষ এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবে।
সময়ের আলো/জোআই/