ছোট ছোট ভোট ব্যাংকে প্রার্থীদের কৌশলী দৃষ্টি

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী

ঢাকা-১৫ আসনে লড়ছেন ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্থানীয় বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের কাছে বিএনপির ঘাঁটি

2026-02-07T03:35:22+00:00
2026-02-07T03:35:22+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ছোট ছোট ভোট ব্যাংকে প্রার্থীদের কৌশলী দৃষ্টি
সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৫ এএম 
ফাইল ছবি
ঢাকা-১৫ আসনে লড়ছেন ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্থানীয় বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের কাছে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে তার বিপরীতে আছেন স্থানীয় বাসিন্দা মনিপুর স্কুলের সাবেক ছাত্র বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

দুই প্রার্থীর সমর্থকদের প্রচারে এখন মুখরিত এই আসনে রাজপথ থেকে অলিগলি। এই দুই প্রার্থী ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দলের প্রার্থী থাকলেও তাদের প্রচার খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। জামায়াতের শীর্ষ নেতা হওয়ায় ডা. শফিকুর রহমান প্রচারে খুব বেশি সময় দিতে না পারলেও তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে গণসংযোগ করা হয়। তবে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সশরীরে যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে। নিজেও সরাসরি অংশ নিচ্ছেন মিছিল-মিটিংয়ে।

ঢাকা-১৫ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল আসন। এই আসনে মোট ২টি থানা ও ৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরপুর মডেল থানা (আংশিক) ও কাফরুল থানা (আংশিক)।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ৪,  তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল, মিরপুর ১০, মিরপুর ১৪, কচুক্ষেত ও পূর্ব সেনপাড়া নিয়ে গঠিত এই আসন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসও পঙ্গু মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালসহ ব্যাপক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অনেক অফিস রয়েছে সংসদীয় এই আসনে। আছে বেশ কিছু জেলাভিত্তিক সমিতিও।

এলাকাভিত্তিক ফ্ল্যাট ও ভাড়াটেদের সমিতিও আছে বিভিন্ন এলাকায়। ব্যবসায়ীদের সমিতিও আছে অনেকগুলো। এসব ছোট ছোট অসংখ্য সংগঠন ও সমিতি এখন প্রার্থীদের কাছে ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। গণপ্রচারের পাশাপাশি প্রার্থীরা এসব সমিতিগুলোর নেতা ও সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছেন। ছোট ছোট হলেও ব্যাপকসংখ্যক এসব সমিতি ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

৬০ ফিট মধ্য পীরেরবাগের স্থানীয় বাসিন্দা ঠিকাদার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন টিটু বলেন, এখানে বরিশাল ও সিরাজগঞ্জের অনেক মানুষের বসবাস রয়েছে। এই দুটি জেলার বাসিন্দাদের সমন্বয়ে সমিতিও আছে। 

প্রার্থীরা এসব সমিতির নেতৃবৃন্দেও সঙ্গে বৈঠকও করেছেন বলে জানান তিনি। স্থানীয়রা জানান, সেনপাড়া পর্বত বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক এবং দক্ষিণ সেনপাড়া বসবাসরত ভোটারদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন প্রার্থীরা। 

তিনি আরও বলেন, এই এলাকাতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। ভোটের প্রচারের ক্ষেত্রেও সহবস্থানে রয়েছেন সবাই। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, দলের শীর্ষ পদে থাকায় এবং দল বিজয়ী হলে ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এমন প্রত্যাশায় ভোটাররা তাকে বিজয়ী করবেন।

জামায়াত মনোনীত সাবেক এমপি প্রার্থী মোবারক হোসেন আমিরে জামায়াতের নির্বাচনি আসনে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমান এই এলাকার সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং এসব সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি কেবল একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী নন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তিনিই হবেন আগামী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা শুধু একজন এমপি প্রার্থীকে নয়, একজন যোগ্য প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দেবেন।

শেওড়াপাড়ায় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ইয়াসিন মোল্লা বলেন, এখান থেকে আমির রাজনীতি করছেন। তিনি আসনের সবচেয়ে শক্ত প্রার্থী। তিনিই জয়ী হবেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরাও তাদের প্রার্থীর বিজয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তাদের প্রার্থী স্থানীয় হওয়ায় এবং এই আসনে বিগত সময়ে বিএনপি প্রার্থী একাধিকবার বিজয়ী হওয়ায় আসনটিকে তারা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে মনে করছেন।

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নেতারা জানান, ঢাকা-১৫ আসন দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাদের মতে, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর কামরুল ইসলাম এই আসন থেকে দুবার নির্বাচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, বর্তমান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তালতলায় কথা হয় বিএনপির কর্মী হুমায়ুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঢাকা-১৫ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ঘাঁটি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর কামরুল ইসলাম এই আসন থেকে দুবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ কারণে এই আসনকে আমরা বিএনপির ঘাঁটি মনে করি। এখানে প্রতীক হিসেবে বিএনপি পাস করবে।

কিছু বাসিন্দা বলছেন, ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি এই এলাকায় শক্তিশালী হওয়ায় দলটির প্রার্থী বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। যদিও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক জনসমাবেশ ও গণসংযোগে জামায়াতের কার্যক্রম আরও জোরালো হচ্ছে এবং এতে ডা. শফিকুর রহমানের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, আমি বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী। এই এলাকায় আমার জন্ম। এখানেই ছোট থেকে বড় হয়েছি। এলাকার প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। আমি সবাইকে চিনি, জানি। এলাকার সব বাড়ির মালিক সমিতি, ফ্ল্যাট মালিক সমিতি, তারা সবাই চায়Ñ তারা এমন একজন প্রতিনিধি পাক, যার কাছে গিয়ে তাদের এলাকার সব সমস্যার কথা বলতে পারবে। নির্বাচিত হলে ভাঙা রাস্তাঘাট, পানি-গ্যাসের সংকট, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান বিএনপির এই প্রার্থী। 

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমি এই এলাকার সন্তান। আমার বিশ্বাস আমার মতো কেউ এলাকাবাসীর আপন হতে পারবে না। আমার জন্ম এই এলাকতেই। আমি সবাইকে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

এই এলাকায় সব ধরনের রাজনৈতিক মানুষ থাকবে, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার এলাকায় সবাই বসবাস করতে পারবে। আমরা একই পরিবারের লোক। মতভেদ থাকতে পারে কিন্তু আমি নির্বাচিত হয়ে একা কিছুই করতে পারব না সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। এমপি হলে আগামীতে আমি ভোটারদের পারিবারিক সদস্য হয়ে সবার মাঝেই থাকতে চাই। এ ছাড়া এলাকার সমস্যাগুলোও আমার চাইতে ভালো কেউ জানবে না। এলাকাবাসীর মনোভাবও আমি ভালো বুঝি। তারা কী চান, কী করলে এলাকার ভালো হবে তাও আমি জানি।

ঢাকা-১৫ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন, তৃতীয় লিঙ্গ ৪ জন। এই আসনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আহম্মদ সাজেদুল হক, জনতার দলের খান শোয়েব আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আশফাকুর রহমান, আমজনতার দলের মো. নিলাভ পারভেজ, জাতীয় পার্টি ও মো. সামসুল হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারেক হোসেন।

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: