সীমান্তবর্তী খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁ। জাতীয় সংসদের ৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে নওগাঁ জেলা গঠিত। ৬টি আসনই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলা এক সময় ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। ১৯৭১ সালের পর থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দখলে ছিল্ এই ৬টি আসন। তবে ১৯৯১ সালে নওগাঁ-৪ আসন থেকে জামায়াত ও একবার নওগাঁ-৫ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিল নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত, বিএনপি, জাতীয় পাটি, ইসলামী আন্দোলন, বিএনএফ, বিআরপি, কমিউনিষ্ট ও স্বতন্ত্রসহ ৬টি আসনে মোট ৩২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) শক্তিশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই তিনটি আসনে বিদ্রোহীর আগুনে পুড়ছে বিএনপি। জামায়াত বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অপর তিনটি আসনেও জামায়াত শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্রসহ সব দলের প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত নির্বাচনি মাঠ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী বিএনপির নেতাকর্মীদের অপকর্ম, আধিপত্য বিস্তার, আচার আচরণে দলটির ইমেজ অনেকাংশে কমেছে। তেমনি জামায়াতের প্রতি সাধারণ ভোটারদের বেড়েছে আগ্রহ।
১১ উপজেলা তিনটি পৌরসভা ও ৯৯টি ইউনিয়ন ও ৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে নওগাঁ জেলা গঠিত। এ জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫শ ৯২জন।
নওগাঁ-১,আসন (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর):- পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর এই তিনটি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে নওগাঁ-১ আসনটি গঠিত।
এটি জাতীয় সংসদীয় আসন নং-৪৬। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩শ ৭৭জন ও মহিলা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬শ ৮৪ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬৬টি। এ আসন থেকে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, নিয়ামতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতের অধ্যক্ষ মোহা. মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. আকবর আলী (লাঙল), ইসলামী আন্দোলনের মো. আ: হক শাহ (হাতপাখা), এ আসন থেকে তিনবারের সাবেক সাংসদ ও সদ্য বহিষ্কৃত নিয়ামতপুর থানা বিএনপির সভাপতি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরী (মোটর সাইকেল) প্রচার প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ।
কিন্তুু এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরী বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ আসনটিতে বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বিএনপির বিশ থেকে পঁচিশ শতাংশ ভোট কাটবেন বলে মনে করা হচ্ছে। জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।
নওগাঁ-২, আসন (পত্নীতলা-ধামুইরহাট):- পত্নীতলা ও ধামুইরহাট উপজেলার ২টি পৌরসভা, ১৯টি ইউনিয়ন নিয়ে নওগাঁ-২ আসনটি গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন নং-৪৭। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪শ ৩৬জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩শ ৭৫জন ও মহিলা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৪টি। এ আসন থেকে মোট ৩ জন প্রাথী আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
তারা হলেন, জামায়াতের মো: এনামুল হক (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির তিনবারের সাবেক সাংসদ সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ), ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম (ঈগল)। এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রচার প্রচারণা তুঙ্গে। এ আসনেও জামায়াত বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী):- মহাদেবপুর, বদলগাছী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে নওগাঁ-৩ আসনটি গঠিত। জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন নং-৪৮। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭শ ৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৮ হাজার ৯শ ৮৮ জন ও মহিলা ২ লাখ ২১ হাজার ৭শ ৯৬জন। এ আসনের ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪২টি। আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে মোট ৮জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
তারা হলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (টেলিভিশন), বাসদের কালিপদ সরকার (মই), ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আজগর (হাতপাখা), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) বিএনপি নেতা পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী (কলস), বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙল), জামায়াতের মাহফুজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) ও স্বতন্ত্র সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ)।
এ আসনে সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও তিনবারের সংসদ সদস্য মহাদেবপুর-বদলগাছীর উন্নয়নের রুপকার মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
এবার দল থেকে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী হওয়ায় বিএনপি প্রার্থী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এ আসন থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী পঁচিশ-ত্রিশ শতাংশ বিএনপির ভোট কেটে নিবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ আসনেও জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর (জনি) মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
নওগাঁ-৪ (মান্দা):- মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে নওগাঁ-৪ আসনটি গঠিত ও জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন নং-৪৯। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮শ ৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১লাখ ৬৫ হাজার ৬শ ৪৩ জন ও মহিলা ১লাখ ৬৮ হাজার ২শ ১৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি।
এ আসনে জামায়াত, বিএনপি, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের মোট ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তারা হলেন, বিএনপি নেতা ডা. ইকরামুল বারী টিপু (ধানের শীষ), নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির মো. আব্দুর রাকিব (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ডা. এস, এম ফজলুর রহমান (কাস্তে), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা. আরফানা বেগম (কলস), জাতীয় পার্টির মো. আলতাফ হোসেন (লাঙল) ও ইসলামী আন্দোলনের সোহরাব হোসেন (হাতপাখা)।
এ আসনে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণায় বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নাছির উদ্দীন মন্ডল এমপি নির্বাচিত হন এ আসন থেকে। একবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে জামায়াতের কয়েকজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বার ও রয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান ও ভোট ব্যাংক রয়েছে। অল্প ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীর্ষের মধ্যে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে।
নওগাঁ-৫ (সদর):- নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে নওগাঁ-৫, সদর আসনটি গঠিত ও জাতীয় সংসদের আসন নং-৫০। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮০ হাজার ৩১ জন ও মহিলা ১ লাখ ৮২ হাজার ৯শ ৯৪ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১৮টি। এ আসনে এবার মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
তারা হলেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাড: আবু সাদাত সায়েম (দাঁড়িপাল্লা)), জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান (হাতপাখা), সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু (ধানের শীষ) ও বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম (কাস্তে)।
আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিএনপির অন্তর্ন্দ্বন্দ্বের কারণে জামায়াত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ আসনে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ববে বলে রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন।
মঙ্গলবার সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নে প্রত্যন্ত গ্রাম মাখনা কোমলগোটা। সেখানে জামায়াতের এক কর্মী শহিদ মোল্লা বাড়িতে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা শেষে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাড. আ.স.ম সায়েম সহ কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছিলো। এ সময় গোপাই গ্রামের বিএনপির কর্মী সমর্থকরা তাদের খাবারের ভিডিও ধারণ করছিল। ছবি ওঠানো নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
পরে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের ঘরবন্দি করে রাখে। পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
নওগাঁয় বিএনপি ও জামায়াত কর্মী-সমর্থকদের হামলার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে উভয় দল। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা।
বুধবার দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক ভিডিও ধারণ করতে গেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে গ্রামবাসী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়, এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপি ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন। এই হামলা পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতেই নিরীহ মানুষ এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে দয়ালের মোড়ে পৌর জামাত অফিসে সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ -৫ (সদর) আসনের জামাতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েম অভিযোগ করেন গণসংযোগ শেষে আমি গোপাই মাখনা গ্রামে আমাদের এক কর্মীর বাড়িতে বিশ্রাম নেই।
সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণীতভাবে ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও সন্ত্রাসীদেরকে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে ১০ নেতাকর্মীকে আহত করে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের আমিরের প্রোগ্রামটা যেন সফল না হয় সে উদ্দেশ্যে তারা হামলা চালিয়েছে।
নওগাঁ-৬,আসন (রাণীনগর-আত্রাই):- রাণীনগর ও আত্রই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে নওগাঁ-৬ আসনটি গঠিত ও জাতীয় সংসদের আসন নং-৫১। এক সময় রক্তাক্ত জনপদ ও বাংলা ভাইয়ের আধিপত্য ছিল এই জনপদে।
মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪শ ১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১লাখ ৭৪ হাজার ৩শ ৫০ জন ও মহিলা ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি। এ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৫ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
তারা হলেন, জামায়াতের খবিরুল ইসলাম(দাঁড়িপাল্লা), আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (ধানের শীষ), বিএনপির থেকে সাবেক তিনবারের সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র) আলমগীর কবির (মোটর সাইকেল), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা(হাতি), ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা)। এ আসনটিতে আলমগীর কবিরের ভোট ব্যাংক রয়েছে।
এ কারণে বিএনপির প্রার্থীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাণীনগর থানা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আলমগীর কবিরের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বুলুকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে বিএনপির বিশ থেকে ত্রিশ শতাংশ ভোট কেটে আলমগীর কবিরের ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুযোগটাই জামায়াত প্রার্থী কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলে সাধারণ ভোটারদের অভিমত। অন্যদিকে জামায়াতের ভোট আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন এ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে। অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় হবে।
সময়ের আলো/এআর