ধানের শীষ-ফুটবল দ্বৈরথে কিংমেকার হতে চায় পাল্লা

এম মামুন হোসেন

ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্য কিংবা ঢাকা আদিবাসীদের বসবাস এখানে। শত বছর বয়সে ন্যুব্জ মহল্লার অলিগলি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। বায়ান্না বাজার

2026-02-08T03:20:12+00:00
2026-02-08T03:20:12+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ধানের শীষ-ফুটবল দ্বৈরথে কিংমেকার হতে চায় পাল্লা
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২০ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্য কিংবা ঢাকা আদিবাসীদের বসবাস এখানে। শত বছর বয়সে ন্যুব্জ মহল্লার অলিগলি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। বায়ান্না বাজার তেপান্ন গলির বাসিন্দাদের তেমন নাগরিক সুবিধা পাওয়া দুষ্কর। গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট, সরু রাস্তা, যানজট এবং কেমিক্যাল গোডাউনের ঝুঁকি প্রধান সমস্যা। সব সরকার এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোগান্তির সার্বিক চিত্র তেমন বদলায়নি ঢাকা-৭ আসনের এলাকা। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ থেকে ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনটি লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালির আংশিক এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন।

সপ্তাহ শেষে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী আসনটিতে নির্বাচনি উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে দলটির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান। 

এই আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে অনেকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইসহাক সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। 

মনোনীত প্রার্থীর বাইরে ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে একজন দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বিএনপির ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সৈয়দ আওয়াল হোসেন লেনের বাসিন্দা রাজন হোসেন খান বলেন, বিএনপিতে দলীয় প্রার্থী ও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে। এতে একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াত বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. এনায়েত উল্লা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান ‘হাতপাখা’ প্রতীকে একক প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। 

১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমঝোতায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তারেক আহম্মেদ আদেল এবং মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন স্বতন্ত্র থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) থেকে হাতি প্রতীকে শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে বটগাছ প্রতীকে মো. হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিÑ বিজেপি থেকে কাঁঠাল প্রতীকে মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) থেকে ছড়ি প্রতীকে মাকসুদুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে তারা প্রতীকে শাহানা সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীকে সীমা দত্ত।

সরজমিনে দেখা যায়, বংশাল, চকবাজার ও নাজিরাবাজারের প্রতিটি মোড়ে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। ছোট ছোট নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে। সারা দিন প্রার্থীদের প্রচারে বাজানো হচ্ছে মাইক। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে মহিলাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তাগুলো এতই ছোট যে রিকশা চললেও জট লেগে যায়। নির্বাচনের আগে অনেকে অনেক স্বপ্ন দেখান, কিন্তু আমাদের জীবনের ঝুঁকি বা নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয় না। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে সংকীর্ণ রাস্তা ও পুরোনো ভবনের কারণে উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে যাবে।

ভূমিকম্পের চেয়েও সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা হলো কেমিক্যাল গুদাম। চকবাজার ও আশপাশে অসংখ্য রাসায়নিক মজুদ করে রাখার ঘর রয়েছে, যা এখনও চলমান। যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। চুড়িহাট্টা ও নিমতলী ট্র্যাজেডির কথাও মনে করিয়ে দেন তারা।

বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও যানজট প্রধান সমস্যা। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। আগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সমস্যার সমাধান করব। 

হামিদুর রহমান আরও জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি বাঁকে সহযোদ্ধা, সহকর্মী এবং এলাকাবাসী যেভাবে পাশে ছিলেন, নির্বাচনের দিন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকবেন। ভোটাররা ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়ী করবেন বলে তিনি আশাবাদী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার বলেন, এতদিন ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। এখন ভোট চাইতে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। তারা আমাকে বরণ করে নিচ্ছেন। ভোটের মাঠে তার কর্মী-সমর্থদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এই অভিযোগ তোলেন তিনি। ইহসাক সরকার বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাসের সংকট। আমাদের মা-বোনরা রান্নাবান্না করতে পারছেন না। পর্যায়ক্রমে এই সংকট সমাধান করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ এনায়েত উল্লা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমাদের টিম একনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

সময়ের আলো/এআর
  বিষয়:   ধান  শীষ  ফুটবল  দ্বৈরথ  পাল্লা 


Advertisement
Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: