ভয়ংকর স্পিনে শুরুতেই জোড়া আঘাত, হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা আর রেকর্ড রানের পাহাড়- আফগানিস্তান ম্যাচ জয়ের সব সরঞ্জামই সাজিয়ে রেখেছিল। কিন্তু টিম সাইফার্টের বিধ্বংসী ফিফটি আর কিউই ব্যাটারদের পেশাদারিত্বের সামনে ম্লান হয়ে গেল রশিদ খানদের সব পরিকল্পনা। গত বিশ্বকাপে ৭৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ার প্রতিশোধ নিয়ে ৫ উইকেটের বড় জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল নিউজিল্যান্ড। আফগানদের বিপক্ষে এটাই কিউইদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) চেন্নাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। গুলবাদিন নাইবের ক্যারিয়ারসেরা ৬৩ রানের ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় দলটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই আফগানদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
প্রথম ১০ ওভারে ৭২ রান তোলা আফগানিস্তান শেষ ১০ ওভারে তাণ্ডব চালিয়ে তোলে ১১০ রান। গুলবাদিন ২৯ বলে পূর্ণ করেন তার প্রথম বিশ্বকাপ ফিফটি। ৩৫ বলে ৬৩ রান করে আউট হন তিনি। এ ছাড়া সেদিকউল্লাহ আতাল (২৯) ও শেষ দিকে আজমাতউল্লাহ ওমারজাইদের ছোট ছোট ক্যামিওতে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে আফগানরা। কিউই বোলার লকি ফার্গুসন ২টি উইকেট নেন।
১৮৪ রানের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে স্পিনার মুজিব উর রহমান পরপর দুই বলে উপড়ে ফেলেন ফিন অ্যালেন (১) ও রাচিন রবিন্দ্রর (০) স্টাম্প। হ্যাটট্রিক বলটি গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটের কানায় লেগে আকাশে উঠলেও শর্ট লেগে ফিল্ডার না থাকায় বেঁচে যান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন ফিলিপস ও সাইফার্ট। ৪৭ বলে ৭৪ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেন তারা।
ফিলিপস ৪২ রান করে রশিদ খানের শিকার হলেও অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন টিম সাইফার্ট। মাঝপথে একবার জীবন পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন এই কিপার-ব্যাটার। ৪২ বলে ৬৫ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলার পথে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন। শেষ দিকে ড্যারেল মিচেলের ১৪ বলে ২৫ এবং মিচেল স্যান্টনারের ৮ বলে ১৭ রানের ক্যামিওতে ১৩ বল বাকি থাকতেই ১৭.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কিউইরা।
দিনের অন্য ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে নেপালকে। ৪ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জ্যাকব বেথেল, হ্যারি ব্রুক ও উইল জ্যাকসের ঝড়ো গতির ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটে ১৮৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। বেথেল ৩৫ বলে ৫৫, অধিনায়ক ব্রুক ৩২ বলে ৫৩ ও উইল জ্যাকস অপরাজিত ২০ বলে ৩৯ রান করেন।
নেপালের স্পিনার শের মাল্লার প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমে নিজের প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে বিরল এক রেকর্ড গড়েন। ইংলিশ ওপেনার ফিল সল্টকে আউট করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থ বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব গড়েন মাল্লার।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে নেপাল ৪২ রানে দুই উইকেট হারায়। এরপর তৃতীয় উইকেটে দিপেন্দ্র সিং ও অধিনায়ক রোহিত পাউডেলের ৫৪ বলে ৮৩ রানের জুটি নেপালকে জয়ের আশা দেখায়। দিপেন্দ্র ২৯ বলে ৪৪ রান করে আউট হন। দিপেন্দ্র বিদায়ের পরই অধিনায়ক পাউডেল ৩৯ রান করে ফিরে যান।
এরপর নেপালকে জয়ের আশা দেখায় লোকেশ বামের ব্যাট। তার ঝড়ো গতির ব্যাটিংয়ে জয়ের জন্য নেপালের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রাখা লোকেশ আর দলকে জেতাতে পারেননি। ৬ উইকেটে ১৮০ রানে থেমে যায় নেপালের ইনিংস। লোকেশ ২০ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
সময়ের আলো/কেএইচও