ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নওগাঁয় প্রচার এখন তুঙ্গে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রচারে ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। কে যাবেন সংসদে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভোটারদের প্রত্যাশা, যিনিই বিজয়ী হোক না কেন তিনি এলাকায় শান্তি বজায় রাখাসহ দেশের উন্নয়ন করবেন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা এবং উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবারে নির্বাচনে বিভিন্ন দল অংশ নিলেও লড়াই হবে মূলত বড় দুই দল— ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে।
এদিকে, বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা না থাকলেও প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছেন।
একইসঙ্গে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে চলছে প্রচার। শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারের তৎপরতা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি আসনে বিভিন্ন দলের ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৭৮২টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন।
মহাদেবপুর উপজেলার জন্তি গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ আশরাফ হোসেন বলেন, বিগত সময়ে অনেকে কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। তবে এবার যদি ভোটের পরিবেশ ভালো হয় এবং কেন্দ্রে যদি নিরাপত্তা থাকে তাহলে ভোট দিতে যাব।
মান্দা উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের জুয়েল রানা বলেন, ভোটের আগে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সংসদে যাওয়ার পর তা আর বাস্তবায়ন হয় না। আমরা প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনা। বাস্তবায়ন চাই। যে প্রার্থী বিজয়ী হোক না কেন তিনি সংসদে গিয়ে এলাকার উন্নয়নের কথা ভাববেন এবং বেকারদের কর্মসংস্থানসহ কৃষিতে গুরুত্ব দেবেন এমন প্রত্যাশা করছি।
এসব বিষয়ে নওগাঁ-৪ (মান্দা) বিএনপির প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, বিগত সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। সেসময় মানুষের দৌঁড়গোড়ায় যেতে পেরেছিলাম। অবহেলিত এ জনপদ উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে আশাবাদী।
আসনটির জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, অবহেলিত এ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আশা করছি, ভোটাররা ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। সব কেন্দ্রে প্রশাসনের তদারকি বাড়াতে হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
কথা হয় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর সঙ্গে।
তিনি বলেন, মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। দীর্ঘ সময় পর তারা কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে। কৃষি প্রধান এ জেলায় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ফলের হিমাগার ও গ্যাস এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। বিজয়ী হলে সেগুলো বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে অপপ্রচার করছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে। ভোটাররা আগামী ১২ তারিখ এসব অপ-প্রচারকারীদের বয়কট করবে।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আ.স.ম সায়েম বলেন, দাঁড়িপাল্লার জোয়ার বইছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আশাবাদী বিজয়ী হব এবং কৃষিপ্রধান জেলার কৃষি উন্নয়নে কাজ করব। তবে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণায় বাধা প্রদান করছে।