ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। সারা দেশের মতো ঢাকা-১৯ আসনেও জমে উঠেছে নির্বাচনি ডামাডোল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোনো দলের কাছেই বিশেষভাবে প্রধান্য পায় এই আসন। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সারা দেশ থেকে আসা মানুষরাই এখানকার বাসিন্দা ও ভোটার।
দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই দুইবার সংসদ সদস্য হয়েছেন ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, যিনি এবারও ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ভর করে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন এনসিপির দিলশানা পারুল (শাপলা কলি)। জামায়াত তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে।
এ ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাবেক সেনা কর্মকর্তা চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, জাতীয় পার্টির বাহাদুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইসরাফিল হোসেন সাভারী এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুল।
এই আসনে ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু জনসমর্থনে অনেকটা এগিয়ে আছেন। অপরদিকে জামায়াত নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলকে সমর্থন দিলেও মাঠপর্যায়ে তিনি এখনও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে পারেননি।
এ ছাড়া এই আসনে লাঙ্গল মার্কা নিয়ে মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আম মার্কা নিয়ে মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কা নিয়ে শেখ শওকত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কা নিয়ে মোহাম্মদ ফারুক খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের হারিকেন মার্কা নিয়ে মো. কামরুল। তবে তাদের প্রচার তেমন একটা চোখে পড়ছে না।
যুবদল নেতা ফারুক আহম্মেদ বলেন, তফসিল ও মার্কা দেওয়ার পর থেকে আমরা উঠান বৈঠক ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করছি। যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তা হলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তাদের একটাই কথা, বিগত সরকারের আমলে ভোট দিতে পারি নাই, তাই এবার সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে।
শিক্ষার্থী ও নতুন ভোটার সাদিয়া আক্তার শিখা বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দেব। বুঝেশুনে চিন্তা করে দেব। জামগড়া এলাকায় পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক হালিমা বেগম বলেন, আমার বাড়ি রংপুরে। চাকরি করার সুবাদে ঢাকা-১৯ আসনের ভোটার আমি। ভোট নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। আমাদের বড় সমস্যা রাস্তাঘাটে পানি জমে থাকা। কেউ এই সমস্যার সমধান করে না। যে সমাধান করতে পারবে তাকেই ভোট দেব। সবাই কথা দিলেও পাস করার পর কথা রাখে না।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেন, আমি একজন নারী প্রার্থী। আর এখানকার অধিকাংশ ভোটার পোশাক শ্রমিক যাদের বড় একটা অংশ নারী ভোটার। এ ছাড়া প্রচুর তরুণ ও নতুন ভোটার রয়েছে। যেহেতু আমি নারী তাই নারী শ্রমিকসহ অধিকাংশ নারী ভোটার আমাকেই ভোট প্রদান করবেন। মূলত এই ভোটাররাই আমার সম্বল।
বিএনপি প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, নির্বাচিত হলে আমার মূল লক্ষ্য হবে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নির্মূল ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করা। আমি এ কাজগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চাই। এ ছাড়া যানজট নিরসনে পুলিশের সহযোগিতায় চেকপোস্ট স্থাপন করতে চাই। নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সব দলকে সমান গুরুত্ব দিই, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি।
সাভার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া সব কেন্দ্রে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১৯ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৭, নারী ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৫০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১৩ জন। এই আসনে সাভার পৌরসভা, সাভার সদর, বিরুলিয়া, পাথালিয়া, আশুলিয়া, ইয়রপুর, শিমুলিয়া, ধামসোনা ইউনিয়নের ভোটাররা অন্তর্ভুক্ত।
এফআর