জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক সাংবাদিক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, হেনস্থা এবং পেশাগত সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী আরিফুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জাবি প্রতিনিধি।
আরিফুর রহমান জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শহিদ মিনার সংলগ্ন সড়কে তিনি সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার পরও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমন, দর্শন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের মো. সাহানুর রহমান সানজু এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জন তাকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন।
তিনি বলেন, ইমন আমার হাত থেকে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন নিয়ে ফুটেজ দেখতে থাকে। পরে ক্যামেরা (সনি আলফা ৬৪০০) ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ক্যামেরা ও লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিবসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান আরিফুর। ঘটনার পর তিনি সহকারী প্রক্টর আব্দুর রাজ্জাক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
আরিফুর রহমানের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা আবারও বাংলা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন বাবুসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে-তিনি নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন এই অভিযোগ তুলে দ্বিতীয়বার তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এছাড়া ঘটনার পর অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের হামলাকে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন আরিফুর রহমান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের মধ্যে মোহাম্মদ ইমনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে বাংলা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন বাবু বলেন, আমি গিয়ে দেখি ৪৮ ও ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হচ্ছিল। আমি তখন ৪৮ ব্যাচের সঙ্গে খেলাধুলা করছিলাম। ৫২ ব্যাচ আমাদের ছোট ভাইদের মতো, তাই আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম।
এদিকে এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংবিধানে প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/এআর