‘বাকশাল’ জবাই করে রাবিতে ‘জুলাই জিয়াফত’

‎রাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

2026-08-15T16:58:50+00:00
2026-08-15T17:07:35+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষা
‘বাকশাল’ জবাই করে রাবিতে ‘জুলাই জিয়াফত’
‎রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম  আপডেট: ১৫.০৮.২০২৬ ৫:০৭ পিএম
‘বাকশাল’ জবাই করে রাবিতে ‘জুলাই জিয়াফত’। ছবি : সময়ের আলো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ৬০০ থেকে ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

‎আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য গরুর মাংসের ভোজের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়। তবে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নারী শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। রাকসু ভবন থেকে তাঁদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

‎এর আগে শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় ভোজের ঘোষণা দিয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ১৫ আগস্ট আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমাদের যে প্রাণপ্রিয় গরুটা আনতে পারছি, তার নাম দেওয়া হয়েছে বাকশাল। এই বাকশালটাকে আমরা কোরবানি করে উদযাপন করব। এটাকে জুলাই জিয়াফতও বলতে পারেন, জুলাইয়ের আপ্যায়ন। আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ থাকবে।

‎পরে গভীর রাতে গরু জবাইয়ের পর একটি পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার লেখেন, ১৫ আগস্ট রাতেই বাকশালরে শুয়াইয়া দিলাম। আমি মেজর সালাউদ্দিন আম্মার বলছি।


‎‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিবন্ধন ফি হিসেবে ১৫ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। ৭৫০ জন শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। ৬৫০ জনের জন্য গরু ভোজ ও বাকিদের জন্য অন্য খাবার রাখা হয়েছে। শুরুতে ফেসবুকে রাকসুর পক্ষ থেকে এ জিয়াফতের আয়োজন করা হয়েছে বলে প্রচার চালানো হয়।

‎পরে জানা যায়, এটি রাকসুর কোনো আয়োজন নয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকে ফেসবুকে সমালোচনা করেছেন। 

আম্মার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি ও ‘বাকশাল’ পতনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাই। মুজিবের ভালো কাজকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলতে শিখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ করেছে বলেই ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের সব কর্মকাণ্ড ক্ষমাযোগ্য হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়।

‎তিনি বলেন, আমরা ১৫ আগস্টকে স্বাভাবিক দিনের মতো দেখতে চাই। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিশেষ আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে না গিয়ে বাকশাল পতনের একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে এ দিনটিকে স্মরণ করতে চাই।

‎আয়োজনের অর্থায়ন প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, এটি ব্যক্তিগত আয়োজন নয়। দেশের বাইরে থাকা একজন ভাই জুলাইয়ের খুশিতে একটি গরু উপহার দিয়েছেন। সেটি দিয়েই এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ থেকে ৭৪০ জন এতে অংশ নিয়েছেন। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি মিলনমেলার আয়োজন করতে চেয়েছি।

‎আয়োজনে বাকশাল প্রসঙ্গে মাসুম বিল্লাহ বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর রাশিয়াকেন্দ্রিক সমাজতান্ত্রিক দলগুলোকে নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করেন। তবে বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সিপিবি, ন্যাপসহ কয়েকটি সংগঠন ছাড়া মার্ক্সবাদী ও লেনিনবাদী রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বাকশালে যুক্ত হয়নি।


‎তিনি আরও বলেন, মার্ক্সবাদী ও বামপন্থী সংগঠনগুলোর মতে, বাকশাল ছিল একটি একতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। তারা একতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়নি। তাদের লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত করা।

‎কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে বসার জায়গার সম্মুখে একটা ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সেখানে লেখা আছে, ‘জুলাই গণ– অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে জুলাইয়ের জিয়াফত’, ব্যানারের ওপরের এক পাশে লেখা ‘মুজিববাদ, মুর্দাবাদ’, অন্য পাশে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   বাকশাল  বাকশাল জবাই  রাবি  জুলাই জিয়াফত  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: