ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার শেষ হলেও ভোটের উত্তাপ এখনো চারদিকে। রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চলছে ঘরে-বাইরে, মাঠে-মঞ্চে- এমনকি বিনোদন অঙ্গনেও। এই আলোচনায় এবার সরাসরি নিজের অবস্থান জানালেন দেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত ও বাউল শিল্পী আবদুল কুদ্দুস বয়াতি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে।’ কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
পোস্টটি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভিড় জমাতে থাকেন সমর্থক ও অনুসারীরা। কেউ একে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতি একজন শিল্পীর স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া বলেই ব্যাখ্যা করছেন। নির্মাতা শিহাব শাহীন পোস্টটি শেয়ার করে লেখেন, ‘হালাল গান’-যা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
কুদ্দুস বয়াতি নতুন করে আলোচনায় এলেও সামাজিক ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশে তিনি বরাবরই সক্রিয়। লোকসংগীতের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কথা বলা এই শিল্পীর রাজনৈতিক মন্তব্যও এবার অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।
আরও পড়ুন
এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন, যার মধ্যে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র।
দলভিত্তিক প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে বিএনপি- ২৯১ জন প্রার্থী নিয়ে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে। জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী লড়ছেন ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জনের প্রতীক ‘ফুটবল’।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট না হওয়ায় ৩০০টির পরিবর্তে ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে।
রাজনৈতিক উত্তাপের এই সময়ে কুদ্দুস বয়াতির মতো একজন লোকশিল্পীর মন্তব্য প্রমাণ করছে- নির্বাচনের প্রভাব শুধু রাজনীতিতেই নয়, সংস্কৃতি ও শিল্পের অঙ্গনেও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এএডি/