ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনের ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকারের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাত ৯টায় কসবা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, তোলাতালা কেন্দ্রের এজেন্ট শফিকুল ইসলামের মা অসুস্থ থাকায় তিনি তাকে দেখতে যান। কুশলাদি বিনিময় শেষে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বাইরে হট্টগোলের শব্দ শুনে গাড়ির কাছে গেলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা উভয় দিক থেকে তার গাড়ি ও প্রতিনিধিদলকে ঘেরাও করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি গাড়িতে উঠতে চাইলে তারা বাধা দেয়। আমার গাড়িচালককে মারধর করা হয়। আমাকে এবং আমার সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদের নোংরা ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। তবে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তারা ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের সদস্যরা পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় মুরুব্বীদের সহায়তায় তিনি গাড়িতে উঠতে সক্ষম হলেও অভিযুক্তরা গাড়ির ওপর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন, আখাউড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন মিয়া, ধরখার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বশির মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বাবু, বিএনপি কর্মী রুবেল মিয়া এবং তাদের সহযোগী নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, নির্বাচন পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা আমীর দ্বীন ইসলাম ভুঁইয়া, প্রধান নির্বাচন এজেন্ট শিবলী নোমানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা হাফেজ আহমেদ, এনসিপি নেতা এম এ বাতেন শরীফ, আখাউড়া উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি ফখরুদ্দিন তাজি ও কসবা পৌরসভা আমীর হারুন অর রশীদ প্রমুখ।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।
সময়ের আলো/জোআই