ইরানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ এবং শীর্ষ সংস্কারপন্থী কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৭টি সংস্কারপন্থী দলের জোট ‘রিফরমিস্ট ফ্রন্ট’-এর প্রধান আজার মনসুরি, যিনি পেজেশকিয়ানের নির্বাচনী জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এবং তা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর ভূমিকা নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই গ্রেফতার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিক্ষোভে নিহত তরুণদের প্রসঙ্গে আজার মনসুরি প্রকাশ্যে বলেন, এ দেশের তরুণদের যারা মাটি ও রক্তে টেনে নামিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের ঘৃণা ও ক্ষোভ। এই বক্তব্যের পরপরই তাকে আটক করা হয়। যদিও তিনি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করেননি, তবুও তার মন্তব্যকে কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে নিয়েছে।
আজার মনসুরি ‘ইসলামিক ইরান পিপলস পার্টি’র সাধারণ সম্পাদক। তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত আন্দোলনকারীদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের ট্র্যাজেডি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
এ অভিযানের অংশ হিসেবে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী সংস্কারপন্থী নেতাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন রিফরমিস্ট ফ্রন্টের রাজনৈতিক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আসগরজাদেহ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির আমলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মহসেন আমিনজাদেহ। গত সোমবার গ্রেফতার হন হোসেন কাররুবি, যিনি সাবেক সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মেহেদি কাররুবির ছেলে। দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকা মেহেদি কাররুবি সম্প্রতি ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খামেনির ধ্বংসাত্মক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতির ফল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। আইআরজিসির অভিযোগ, তার ছেলে হোসেন কাররুবি ওই ‘অস্থিতিশীল বিবৃতি’ প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।
এ ছাড়া রিফরমিস্ট ফ্রন্টের আরও অন্তত দুই বিশিষ্ট নেতাকে এভিন কারাগারের প্রসিকিউটর অফিসে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কৌশল নিয়ে সমালোচনা যাতে বিস্তৃত না হয়, সে উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসাবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার বলা হলেও, বিভিন্ন স্বাধীন সূত্র দাবি করছে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে উদ্বেগ বাড়ছে।
আজার মনসুরির মুক্তির দাবিতে ‘ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি’ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আইন মেনে শান্তিপূর্ণ রাজনীতি করে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন নিরাপত্তা অভিযান অত্যন্ত উদ্বেগজনক—বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ বিদেশি চাপ ও অভ্যন্তরীণ সংকটে রয়েছে।
তবে তেহরানের প্রসিকিউটর অফিস দাবি করেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ‘সন্ত্রাসীদের পদাতিক বাহিনীর’ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করে কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় সংহতি ক্ষুণ্ন করা, সংবিধানবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকা, আত্মসমর্পণমূলক প্রচারণা চালানো এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে বিপথে পরিচালিত করে গোপন নাশকতার পরিকল্পনা তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
/ইউএমএইচ