বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবেশী ভারত সীমান্তজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একাধিক রাজ্যে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন কোনো ধরনের অস্থিরতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভেতরে প্রভাব না ফেলে, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গসহ সীমান্তঘেঁষা রাজ্যগুলোর বিভিন্ন জেলায় হোটেল, বাজার ও জনবহুল এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং যানবাহনে চেকিং অব্যাহত রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নজরদারি চলবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
ভারত-নেপাল আন্তর্জাতিক সীমান্তের পশুপতি ফটকেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশের নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য ভোটার আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে যেখানে আধার বা প্যান কার্ড দিয়েও যাতায়াত সম্ভব ছিল, এখন সেখানে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই সীমান্তে দায়িত্বে রয়েছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)।
বাংলাদেশের ভোটকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমার ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর দিয়ে তিন দিন পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। শনিবার থেকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।
ঘোজাডাঙ্গা বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। ফলে এই সাময়িক বন্ধে সীমান্তজুড়ে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নির্বাচনী সময়কাল পেরিয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে ধাপে ধাপে কড়াকড়ি শিথিল করা হবে।
বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই বাড়তি সতর্কতা দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিকেই সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএডি/