সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি ভোরের কুয়াশা ভেদ করে ছেলের হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন শতবর্ষী মো. হেকমত আলী সরকার ও মৃত আব্দুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা খাতুন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সবার আগে ভোট দিয়েছেন এই শতবর্ষী মো. হেকমত আলী সরকার। আর ঝাউডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন রাশিদা খাতুন।
সাতক্ষরিা–(সদর দেবহাটা) কেন্দ্রে ভোট দিতে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন হেকমত আলী সরকার। ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই তিনি কেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট দেওয়ার পর মো. হেকমত আলী সরকার বলেন, ভোট দিয়ে ভালো লাগছে। সবার আগে ভোট দিয়েছি। ছেলে মো. রহমত আলী (৪২) বলেন, আমরা সকাল সাড়ে ৬টার সময় পরিবারের সবাই একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছি। এই গ্রামে আমাদের পরিবার সবার আগে ভোট দিয়েছে। আমার বাবার বয়স ১০৫ বছর, তাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি।
এদিকে আরেক শতবর্ষী নারী সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা এলাকার অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মৃত আব্দুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা খাতুনকে সকাল ৯ টার দিকে ভোট দিতে হুইল চেয়ারে করে ঝাউডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে নিয়ে আসেন তার ছেলে ইজ্ঞিনিয়ার আমজাদ হোসেন ও নাতী আসাদুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৭ বছর পর জীবনের শেষ ভোটটি শান্তিপূর্ণভাবে দিতে পেরে বেজায় খুশি রাশিদা। নাতী আসাদুল জানান, দাদীকে নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আমরা সবাই খুবই খুশি।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা জেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ চলছে। জেলার সব ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ভোটারদেরও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, বেলা ৩ টা পর্যন্ত সাতক্ষীরার ৪টি আসনে গড়ে ৫৮% ভোট পড়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। স্বতস্পূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।
সময়ের আলো/জোআই