ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী–১ (গোদাগাড়ী–তানোর) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব ও দলের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিনকে ৭৭৪ ভোটে পরাজিত করেন। পোস্টাল ভোট যুক্ত হলে এই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮৪ ভোটে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১২০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ এবং তানোর উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮২০ জন। মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৪টি ভোট কাস্ট হয়। গোদাগাড়ীতে ভোটের হার ছিল ৭৩.৬৩ শতাংশ এবং তানোরে ৭৭.৩৬ শতাংশ। দুই উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৫৯টি।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৪ ভোট। এর মধ্যে গোদাগাড়ীতে ১ লাখ ৭ হাজার ৪৬০ এবং তানোরে ৬২ হাজার ৩২৪ ভোট পান তিনি।
ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১০ ভোট। গোদাগাড়ীতে তিনি পান ১ লাখ ৩ হাজার ৩৩৬ এবং তানোরে ৬৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।
এ ছাড়া এপি পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান (ঈগল) পেয়েছেন ১ হাজার ৮০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল সাআদ (মোবাইল ফোন) পেয়েছেন ৬৫০ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহান (ট্রাক) পেয়েছেন ৩৯৬ ভোট।
পোস্টাল ভোটে ব্যবধান বৃদ্ধি
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ভোটে জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ২ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৮৯২ ভোট। এতে চূড়ান্ত ব্যবধানে পার্থক্য বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮৪ ভোটে।
গণভোটের ফল একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬০টি। এর মধ্যে গোদাগাড়ীতে ১ লাখ ৫১ হাজার ২০৯ এবং তানোরে ৮৬ হাজার ৭৫১ ভোট।
‘না’ ভোট পড়েছে ৭৪ হাজার ৯৪৯টি। গোদাগাড়ীতে ৪২ হাজার ৭৬৩ এবং তানোরে ৩২ হাজার ১৮৬ ভোট পড়েছে।
ফলাফল ঘোষণার পর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
অন্যদিকে মো. শরীফ উদ্দিন জানান, ভোটের ব্যবধান কম হওয়ায় ফলাফল বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুবই কম হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র। বিশেষ করে তানোরে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও গোদাগাড়ীতে জামায়াত প্রার্থীর বড় ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এফআর