আনন্দমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দিনাজপুরের ৬টি আসনের ৫টিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আর একটি আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী।
ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।
বেসরকারিভাবে বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন-
দিনাজপুর-১ (সংসদীয় আসন-৬) বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা : এই আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এতে ৮২৫ পোস্টাল ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ৯৪ হাজার ২৫২ ভোট। ৯৯৩টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন এই জামায়াত প্রার্থী। আর গণভোটে হ্যাঁ ১৫২৮টি ও না তে ৩০০টি ভোট পড়েছে।
দিনাজপুর-২ (সংসদীয় আসন-৭) বোচাগঞ্জ ও বিরল উপজেলা : আসনটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. সাদিক রিয়াজ ১ লাখ ৭০ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এতে পোস্টাল ভোট পেয়েছেন তিনি ৭৪৪টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এ, কে, এম আফজালুল আনাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪২ ভোট। ১১৯৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন এই জামায়াত প্রার্থী। আর গণভোটে পড়েছে হ্যাঁ ১৮০০টি ও না তে ২৬২টি ভোট।
দিনাজপুর-৩ (সংসদীয় আসন-৮) সদর উপজেলা : এই সদর আসনে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এতে পোস্টাল পেয়েছেন তিনি ১৪০১টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. মাইনুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১৯২১টি। আর গণভোটে পড়েছে হ্যাঁ ২৬৩১টি ও না তে ৪৩৯টি ভোট।
দিনাজপুর-৪ (সংসদীয় আসন-৯) চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলা : এই আসন থেকে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এতে পোস্টাল ভোট পেয়েছেন তিনি ১১৪০টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. আফতাব উদ্দীন মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন তিনি ১৩৯০টি। আর গণভোটে পড়েছে হ্যাঁ ৩১৭৭টি ও না তে ৩৫৭৭টি ভোট।
দিনাজপুর-৫ (সংসদীয় আসন-১০) পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা : একমাত্র এই আসন থেকে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক তালা প্রতীকে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এতে পোস্টাল ভোট পেয়েছেন তিনি ৮৩২টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ডা. মো. আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৪৬ ভোট। তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১২৪৭টি। তবে, জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ব্যারিষ্টার একেএম কামরুজ্জামান পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৬০১ ভোট। এতে পোস্টাল ভোট পেয়েছেন তিনি ৮১৭টি। আর গণভোটে পড়েছে হ্যাঁ ২৫৭৯টি ও না তে ৩৭৩টি ভোট।
দিনাজপুর-৬ (সংসদীয় আসন-১১) বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলা : এই আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষ প্রতীকের অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৭৭ ভোট।
সময়ের আলো/এনএ