বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত মেহেরপুরের দুটি সংসদীয় আসন। এ দুটি আসনেই এবার বিএনপির সাবেক দুই সংসদ সদস্যকে পরাজিত করে জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনে জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দীন খান ও মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য নাজমুল হুদা বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির দলীয় অন্তঃকোন্দলের ফলে আসন দুটিতে জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ অরুণ ১৬ হাজার ৬৭৪ ভোটে পরাজিত হন। মেহেরপুর-২ গাংনী আসনে বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেন ১০ হাজার ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালে মেহেরপুর জেলা গঠনের পর থেকে মেহেরপুর-১ আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি তিনবার ও জাতীয় পার্টি একবার জয় পায়। আসনটিতে এবারই প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তিনবার, বিএনপি চারবার, স্বতন্ত্র দুইবার ও ফ্রিডম পার্টি একবার জয়ী হয়। এ আসনেও জামায়াত ইসলামী প্রথমবার জয়ী হয়।
এ দুটি আসনে বিএনপির পরাজয়ের পিছনে বিএনপির অন্তঃকোন্দলকে দায়ী করছেন নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সময়ের আলোকে বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য রাজপথে মশাল মিছিলসহ প্রতিদিন নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।
তারা আরও বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাদের জন্য মাঠে কোন কাজ করেনি। বরং অনুসারীদের মাধ্যমে তাদের ভোটারকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য বলে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেলার দুটি আসনে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের এমন ষড়যন্ত্রের কারণেই আসন দুটিতে বিএনপি হেরেছে।
সময়ের আলো/আআ