চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এক মা ও তার মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, এ ঘটনায় মামলা না করতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মওলার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। দিনদুপুরে মা-মেয়েকে অতর্কিতভাবে কুপিয়ে জখম করার একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
আহতরা হলেন, ময়ুরা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৫)। ময়ুরা খাতুন একই এলাকার আবুল হাশেমের স্ত্রী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলায় ময়ুরা খাতুনের মাথায় ৪টি এবং রাবিয়া খাতুনের মাথায় ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চায়ের দোকানে ফুটবল খেলা নিয়ে আলোচনার সময় স্থানীয় যুবক রাকিবের সঙ্গে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলামের গ্যাংয়ের এক সদস্যের বাকবিতণ্ডা হয়। দোকানদার তাদের চিল্লাচিল্লি না করতে বারণ করেন। এ ঘটনার পর থেকেই মোরশেদুল ইসলাম যুবক রাকিবকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এরই জেরে সোমবার সকালে মোরশেদুল ও তার ভাই মোহাম্মদ হাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল রাকিবকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। ময়ুরা খাতুনের বাড়ির সামনে রাকিবকে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় ময়ুরা খাতুন এগিয়ে এসে তার বাড়ির সামনে ঝামেলা করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে ময়ুরা খাতুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাকে বাঁচাতে তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন এগিয়ে এলে তার ওপরও এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এ হামলায় মা-মেয়েসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। ময়ুরা খাতুন ও তার মেয়ের মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ময়ুরা খাতুনের বাড়ির সামনে মোরশেদ ও হাবিব আমাকে মারধর করছিল। ময়ুরা আন্টি তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা তার ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে রাবিয়া এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। দিনদুপুরে এমন ভয়াবহ ঘটনা আমি আগে কখনো দেখিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে তাদের চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন। তার বাবা জাকের হোসেনের বিরুদ্ধেও জমি দখলসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
আহত ময়ুরা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মা ও বোন কারও কোনো ক্ষতি করেননি। প্রতিবেশীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের অপরাধ। এজন্য তাদের দা-কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমরা অসহায় মানুষ, আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই। সকালে এসে মোরশেদ হুমকি দিয়ে গেছে— মামলা করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রভাবশালী হামলাকারীদের ভয়ে তারা মামলা করতে সাহস পাচ্ছেন না। পুলিশকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানালেও মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হাবিবের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে চায়ের দোকানে হট্টগোলের জেরে ঘটনার সূত্রপাত। প্রতিবেশীকে রক্ষা করতে গিয়ে ময়ুরা খাতুন ও তার মেয়ে হামলার শিকার হন। পুলিশের জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। মা-মেয়েকে লিখিত এজাহার জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
সময়ের আলো/জোই