ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর বাগেরহাটের পল্লীতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতায় আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থক ওসমান সরদার (২৯) নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ী গ্রামে বিএনপি ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওসমান সরদারসহ উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়।
নিহত ওসমান বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের পার নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে।
নিহতের বড় ভাই সরদার এনামুল কবির বলেন, ওই এলাকায় ধানের শীষের লোকজন ঘোড়া প্রতীকের লোকজন কই গেল বলে খুঁজছিল। এ সময় আমার ভাইসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়, এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে ধানের শীষের সমর্থকরা। পরে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে এখানের চিকিৎসকরা খুলনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১১টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এখানে সংঘর্ষে আরও আহত হন ধানের শীষ গ্রুপের মিরাজ শিকদার (৩৫), হাবিবুর শিকদার (৩৭), হোসাইন বেপারী (২৫) ইমরান (২৫) এবং এমএএইচ সেলিম গ্রুপের ওসমান সরদার (৩৫) ও সালাম সরদার (৫৮)। আহতদের মধ্যে হাবিবুর সিকদার, মিরাজ শিকদার ও ওসমান সরদারদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকেও খুলনায় রেফার করেন।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, ওসমানের মৃত্যুর খবর শুনেছি। ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। এই দুই প্রার্থীকেই বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসনটাতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ।
সময়ের আলো/জোআই