ফরিদপুরে বিএডিসির একটি টেন্ডার নিয়ে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
এমন ঘটনায় বিএডিসির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়মের মাধ্যমে কাজ দেওয়ায় প্রতিকার চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের চেয়ারম্যান, সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও বিএডিসির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি বিএডিসি ফরিদপুর রিজিওন অফিস থেকে ১২০০ মিটার ইউপিভিসি বারিড পাইপ ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ দরপত্রে বিএডিসির তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন ঠিকাদার অংশ নেয়। দরপত্রের শর্ত মোতাবেক ২৫ লাখ টাকার অভিজ্ঞতার সনদপত্র চাওয়া হয়।
কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা ঝনক-এর প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিয়া অ্যান্ড সন্স দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকার অভিজ্ঞতা সনদপত্র জমা না দিলেও তাকে কাজটি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ঠিকাদারদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিএডিসির তালিকাভুক্ত কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, অফিস কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধায় ম্যানেজ করে নিয়মের বাইরে থেকে কাজটি দেওয়া হয়েছে। তারা তদন্ত করে ফের দরপত্র আহ্বানের দাবি করেন।
দরপত্রের বিষয়ে অভিযোগ দেওয়া মেসার্স কাজী রিজানুর রহমানের প্রতিষ্ঠানের কর্নধার কাজী রিজানুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজটি দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকে। দরপত্রের শিডিউল না মেনে কাজ দেওয়ার কারণে তিনি এ অনিয়মের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের চেয়ারম্যান, সচিবসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি আরও বলেন, দরপত্রে যে অনিয়ম হয়েছে তা কাগজপত্র যাচাই বাছাই করলে ধরা পড়বে। বর্তমান টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএডিসির (ক্ষুদ্রসেচ) রিজিয়ন, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহী আমিন বলেন, দরপত্র নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি। যারা অনিয়মের কথা বলছেন তারা না জেনে বলছেন। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কাজ দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।