দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতার অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নিজ দলের ২৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এবং রোববার সকালে রামগতি থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করা হয়। এতে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বাদী হিসেবে মামলাগুলো করেছেন রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ উদ্দিন এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ অভিযোগ করেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রামদয়াল বাজার জিরো পয়েন্টে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় তারা ব্যবসায়ী মনিরের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটনায় মো. রাব্বি ও মো. রায়হানসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ও বৃহত্তর ঘটনায় বাদী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ উদ্দিন।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে চর আফজল এলাকায় অবস্থিত ‘মোল্লা ব্রিকফিল্ড’ এ হামলা চালায় বিবাদীরা। সেখানে ১ নম্বর বিবাদী হাজী বেলাল উদ্দিন ও ২ নম্বর বিবাদী মো. ইমনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক ব্রিকফিল্ড মালিকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা ব্রিকফিল্ডে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে শ্রমিকদের মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
একই দিন দুপুরে ৩ নম্বর বিবাদীর নেতৃত্বে অন্য আসামিরা স্থানীয় একটি দোকানে প্রবেশ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং সেখানে অবস্থানরতদের মারধর করে জখম করে। এই মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে তারা দায়বদ্ধ এবং দলীয় পরিচয়ে অপকর্ম করে দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, মামলার পর অভিযান চালিয়ে মিরাজ ও রিয়াজ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন