নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চাঁদার টাকা না পেয়ে এক মাইক্রোবাসচালককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। মারধরে গুরুতর আহত হন স্বপন মণ্ডল (৪০) নামের ওই ব্যক্তি।
শনিবার (১৪ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার পারইল ইউনিয়নের বিলকৃষ্ণপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তবে, অভিযুক্তদের দাবি, চাঁদার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক পূর্ব শত্রুতা কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী স্বপন মণ্ডল বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের মজিবর মণ্ডলের ছেলে। তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন।
মারধরকারীরা সবাই ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেনের অনুসারী বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী স্বপন মণ্ডল ও তার পরিবারের অভিযোগ, শনিবার রাতে বাজার থেকে ফেরার পথে তার ওপর হামলা হয়। একই এলাকার হেলালের ছেলে আশিক হোসেন ও আলামিন, মৃত গুলফর মণ্ডলের ছেলে জিসান মণ্ডল, মৃত হাতেম আলীর ছেলে জামাল এবং তারিকুল ও সালামসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজন স্বপন মণ্ডলকে লোহার রড দিয়ে তাকে ব্যাপক মারপিট করে। এতে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।
পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন স্বপন মণ্ডলকে উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিন রাতেই নওগাঁ সদর হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে স্বপন মণ্ডল সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, স্বপন মণ্ডল একসময় আওয়ামী লীগ করত এবং এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর হয়ে কাজ করেনি। বিষয়টি নিয়ে কাটাকাটির একপর্যায়ে এই মারপিটের ঘটনা ঘটতে পারে।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত আশিক হোসেন মুঠোফোনে বলেন, সে (স্বপন মণ্ডল) ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আমাকে খুব জ্বালিয়েছে। তার জন্য এলাকায় থাকতে পারিনি। ১২ তারিখের নির্বাচন নিয়েও সে বাজে কথা বলেছে।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমাদেরকে দেখেই সে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পায়। তবে আমরা তাকে মেরেছি। তাকে মারার পর অনেকে খুশি হয়েছে। কিন্তু চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা। আর আমি শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। রাণীনগর উপজেলায় কোনো পদ নেই।
আরেক অভিযুক্ত জিসান মণ্ডল মুঠোফোনে বলেন, আমরা তাকে মারধর করি নাই।
জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমার অনুসারী হোক আর না হোক, তারা বিএনপির এবং অন্যায় করেছে, এটাই বড় ব্যাপার। এই জন্য তাদেরকে খুব শাসন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তবুও স্বপন যদি ক্ষমা করে, তাহলে তাদের ক্ষমা হবে। তাছাড়া হবেনা। দলীয় ও আইনগত দুইভাবেই ব্যবস্থা হবে বলেও জানান তিনি।
জানতে চাইলে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল লতিফ মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফআর