নওগাঁর ধামইরহাটে ‘খাসি বলে কুকুরের মাংস বিক্রির অভিযোগ’ শিরোনামে সময়ের আলোতে খবর প্রকাশের পর জড়িত সেই কসাই এন্তাজকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে দশটার দিকে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বিষয়টি সময়ের আলোকে নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃত এনতাজ উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত ওলিশার ছেলে। তিনি পেশায় একজন কসাই। গত শনিবার দিবাগত রাতে একটি কুকুর জবাই করে এলাকায় আলোচিত ও ঘৃণিত হন তিনি।
কসাই এন্তাজ বলেন, মঙ্গলবাড়ী বাজার এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী দুলু (মৌলভী) নামের এক ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে এনে কুকুরটিকে জবাই করে। এসময় পার্শ্ববর্তী জিতারপুর এলাকার ইদ্রিস কসাইও ছিল। পরবর্তীতে জবাই করা কুকুরের মাংস বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করার কথা ছিল।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যায় বিকন্দখাস নামক এলাকায় ইট ভাটার পাশে একটি দোকানে পান বিড়ি কিনতে গেলে জনতা দেখতে পেয়ে আটক করে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়।
এন্তাজের দাবি, তার কোন দোষ নেই। দুলু মৌলভীর নির্দেশে মাংসগুলো পার্শ্ববর্তী মুকুন্দপুর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে কম দামে বাকিতে বিক্রি করা হত।
এর আগে, গত শনিবার দিবাগত রাতে বাড়ির পাশেই একটি আলুর খেতে কুকুর জবাই করে এনতাজ এবং তার সহযোগীরা। পরবর্তীতে ওই মাংস মঙ্গলবাড়ী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় খাসির মাংস বলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
এর পরেরদিন রোববার সকালে বিষয়টি প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে এনতাজ গং গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় জবাইকৃত ২৫ কেজি কুকুরের মাংস জব্দ করে পুলিশ।
ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, আজ সন্ধ্যায় উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের নানাইচ চৌরাস্তা মোড় থেকে ওই এলাকার উত্তেজিত সাধারণ জনতা এন্তাজকে দেখতে পেয়ে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও জানান, রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় খাদ্য নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এফআর