রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মার চরে বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হয়। ফসল উৎপাদনের জন্য উৎকৃষ্ট চরাঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্নেশন এলাকা। গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্নেশন এলাকা। এই চরটি কৃষিনির্ভর এলাকা।
কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন এখানকার বেশিরভাগ মানুষ। এলাকাটি পদ্মা নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠায় বছরের প্রায় ৪ মাস বেশিরভাগ কৃষি জমি পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এ সময় অনেকেই কৃষিকাজের পাশাপাশি মৎস্য শিকারে নিয়োজিত থাকেন। বাকি সময়গুলোতে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠজুড়ে দেখা যায় নানা রকমের ফসলের সমারোহ। যেদিকেই তাকানো যায় সে দিকেই শুধু ফসল আর ফসল। বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন রকমের ফসলের চাষ হয় চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্নেশন এলাকায়।
কৃষিপণ্য পরিবহনে এ অঞ্চলের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চরাঞ্চলে রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কৃষিপণ্য পরিবহনে এ অঞ্চলের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি। ভাঙা রাস্তার কারণে ক্ষেত থেকে তুলে সেসব কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে প্রথমে ঘোড়ার গাড়ি এবং পরে অন্য যানবাহনে নিয়ে শহরে বিক্রি করতে হয়। এতে পণ্য পরিবহনে কৃষকের খরচ বেশি পড়ে যায়। ফলে কৃষকরা লাভবান হন কম।
সরেজমিন কথা হয় চরাঞ্চলের বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। আলাপকালে তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অনেক কষ্ট করে ফসল ফলাই। কিন্তু ভালো রাস্তা না থাকায় ফসল পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফসল আনা-নেওয়ায় খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়। রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে তারা আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের এই চরের রাস্তাগুলো মেরামত করে দিলে আমরা চরবাসী খুবই উপকৃত হতাম।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে উজানচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. রাসেল শেখ বলেন, চরবাসীর চলাচল ও ফসল আনা-নেওয়ার জন্য মজলিশপুর ব্রিজ করা হয়েছে। রাস্তার কাজ চলমান থাকায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। রাস্তার কাজ শেষ হলে ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন উজানচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. রাসেল শেখ।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে চরের জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন চাষ প্রায় শেষের দিকে। যেসব জমিতে পেঁয়াজ, রসুনের আবাদ করা হয়েছে সেখান থেকে পেঁয়াজ, রসুন উঠে গেলেই শুরু হবে ইরি ধান চাষের ধুম। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষ হবে সেসব এলাকাজুড়ে।