পবিত্র রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে আলোচনা। সরকারি হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী সৌদি আরবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা শুরুর কথা থাকলেও জ্যোতির্বিদরা বলছেন, বাস্তবে তার আগের দিন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ফলে চাঁদ দেখা বনাম ক্যালেন্ডার নির্ভর ঘোষণার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। খবর গালফ নিউজ, মরক্কো নিউজের।
সৌদি আরবের সরকারি হিজরি ক্যালেন্ডার উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার দীর্ঘদিন ধরেই মাস শুরুর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এটি সরাসরি চাঁদ দেখার ওপর নয়, বরং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর নির্ভরশীল- এমন দাবি বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার আকাশে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই। এ অবস্থায় সৌদি যদি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান শুরুর ঘোষণা দেয়, তাহলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী নতুন মাস শুরু হয় চাঁদ দেখার মাধ্যমে। তাই রমজান ও ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে সরাসরি চাঁদ দেখা বা নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যের গুরুত্ব রয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশে এ প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা দেখা যায়। কেউ নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়, আবার কেউ সৌদি আরবের ঘোষণাকে অনুসরণ করে।
বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো দেশে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি না থাকায় অনেক মুসলিম সম্প্রদায় সৌদির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেন- যদিও এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
আরও পড়ুন
চাঁদ দেখা নিয়ে সৌদি আরবকে ঘিরে প্রশ্ন নতুন নয়। ২০২৩ সালে ঈদুল ফিতরের সময় বড় ধরনের আলোচনা তৈরি হয়। সে বছর আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন কুয়েতের জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন। তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চাঁদের ছবি প্রকাশের আহ্বান জানান।
কিন্তু একই দিনে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঈদের ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে সৌদি জ্যোতির্বিদ মুলহাম আল-হিন্দি একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা অনুজ্জ্বল চাঁদের ছবি প্রকাশ করেন। তবে সেটি নিয়েও বিতর্ক থামেনি।
এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে সৌদির ঘোষণার অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ২০২৪ সালেও ঈদুল আজহার চাঁদ দেখা নিয়ে একই ধরনের মতভেদ তৈরি হয়। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী চাঁদ দৃশ্যমান না হওয়ার কথা থাকলেও সৌদি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
ইসলামিক বর্ষপঞ্জি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ বলেন, বহুবার এমন হয়েছে যখন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদ দেখা অসম্ভব হলেও সৌদি চাঁদ দেখার দাবি করেছে। তার মতে, এসব ঘোষণা প্রায়ই সরকারি ক্যালেন্ডারের তারিখের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি নিয়মিত চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিলেও একই সময় অন্য কোথাও তা নিশ্চিত করা যায় না- এ বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দেয়।
এএডি/