আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্মকর্তা সমিতির ২০২৬-২৭ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এই নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থি কর্মকর্তারা। একপক্ষের অভিযোগ, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেই এই নির্বাচনের কমিশন গঠন করা হয়েছে। অপরপক্ষ বলছেন সাধারণ সভায় কর্মকর্তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই কমিশন গঠন করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর ইবি কর্মকর্তা সমিতির বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আওয়ামীপন্থি হওয়ায় দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেন। দায়িত্বের শূন্যতা পূরণের জন্য বিএনপিপন্থি ইবি জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট ও জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরাম এবং জামায়াতপন্থি গ্রীন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিটের কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। এ পরিষদের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই নির্বাচন আয়োজনের জন্য তোড়জোড় শুরু করে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট। তবে সে সময় জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন নিয়ে বিরোধিতা করে জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরাম ও গ্রিন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিট।
পরে জাতীয় নির্বাচনের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে ইবি কর্মকর্তা সমিতি। এর প্রেক্ষিতে পরিবহণ শাখার উপ-রেজিস্টার হাফিজুর রহমানকে প্রধান নির্বাচন কমিশন করে ৭ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরাম ও গ্রিন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিট।
জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরাম ও গ্রিন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিটের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ফোরাম একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিশন পাঁচ সদস্যের হলেও সেখানে তারা সাত সদস্যের কমিশন গঠন করেছে। এমনকি কমিশন গঠনে বিষয়ে আমাদের দুই সংগঠনকে অবগত করা হয়নি। নির্বাচনের তফসিলও তারা নিজেদের মতো করে ঘোষণা করেছে। সকলের সমন্বয় না করেই নিজেদের মধ্যে সভা করে সেটিকে তলবি সভা বলে চালিয়ে দিয়েছে। সভায় তারা স্বাক্ষর জালিয়াতিও করেছে।
এ বিষয়ে গ্রিন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি ওমর আলী বলেন, আমরাও নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কিন্তু যেভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে, তাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। জিয়া পরিষদ নিজেদের মতো নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। এ কমিশন গঠনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। তাই আমরা এই কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব না। কমিশনে আমাদের অবগত না করেই আমাদের ফোরামের একজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই তিনি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।
জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, গঠনতন্ত্রের নিয়ম মেনে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়নি। সেখানে আমাদের একজন কর্মকর্তার নাম সংযুক্ত করা হলেও তিনি পদত্যাগ করেছেন। এমনকি নির্বাচনের তফসিলও নিজেদের ইচ্ছামতো ঘোষণা করেছে তারা। এর আগে আমরা তিনটি সংগঠন একসঙ্গে উপাচার্য স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল উপাচার্য নিজে নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেবেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে তারা একতরফাভাবে কমিশন গঠন করেছে। এমনকি তারা নিজেদের মধ্যে সভা করে সেটিকে তলবি সভা বলে প্রচার ও সাক্ষর জালিয়াতি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, সকল কর্মকর্তাদের নিয়ে সাধারণ সভা করা হয়েছে। সেখানে সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত এবং এর পক্ষে দুই শতাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। গঠনতন্ত্র সাধারণ সভার মাধ্যমে পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। সংগ্রহ করা স্বাক্ষরগুলো জাল নয়। এর আগে আমরাও উপাচার্যকে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে বলেছি কিন্তু তিনি সেটা করতে পারেনি। পরবর্তীতে স্বাক্ষরগুলো ভিত্তিতেই একটি তলবি সভা আহ্বান করা হয়। সেখানেই তলবি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
সময়ের আলো/জোই