নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আমিনুল হক। মাঠের মানুষ হিসেবে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। খেলোয়াড় থেকে সংগঠক-সবার পছন্দের একজন সাবেক এ তারকা ফুটবলার-গোলরক্ষক। একজন মাঠের মানুষ, কাছের মানুষ হিসেবে আমিনুলের কাছে তাই ক্রীড়াঙ্গনের বিশেষ করে খেলোয়াড়দের চাওয়া এবং প্রত্যাশাও অনেক। ক্ষমতার চেয়ারে না থেকেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক কাজ করেছেন আমিনুল। ক্ষমতার চেয়ারে বসে সেই কাজে আরও গতিশীলতা বাড়বে বলে বিশ্বাস খেলোয়াড়দের।
বিপ্লব ভট্টাচার্য
তারকা গোলরক্ষক ও আমিনুলের সতীর্থ আমিনুল আমার বন্ধু, সতীর্থ, প্রতিদ্বন্দ্বী। মাঠে আমরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাঠের বাইরে আমাদের সম্পর্ক ছিল বেশ মধুর। আমিনুল আর আমার ফুটবলের শুরুটা একই সময়। সেই পাইওনিয়র লিগ থেকে ১৯৯৩ সালে। ওই সময় আমি দীপালি সংঘে ছিলাম, আমিনুল তখন মিরপুর এমএসপিসি ক্লাবে ছিল। আমার ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, আমিনুলরা সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল।
এরপর আমি চলে যাই আবাহনী ক্লাবে ও ছিল মোহামেডানে। সেখান থেকে পরে বয়সভিত্তিক জাতীয় দল হয়ে ২০০৩ সাফজয়ী দলের সদস্য হওয়া। বন্ধুর সঙ্গে অনেক স্মৃতি আমার। সেসব বলে শেষ করা যাবে না। আমি শুধু এতটুকু বলব, ক্রীড়াঙ্গন প্রকৃত অর্থে একজন অভিভাবক পেল। ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে আমি আমিনুলের সাফল্য এবং সমৃদ্ধি কামনা করছি। আশা করি ওর হাত ধরে আমাদের ফুটবলসহ পুরো ক্রীড়াক্ষেত্র এগিয়ে যাবে।
জাহেদ পারভেজ চৌধুরী
জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও বিএনপির ক্রীড়া দলের সদস্য সচিব আমিনুল ভাই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এতে আমি অত্যন্ত খুশি, আনন্দিত। এই আনন্দ আসলে ভাষায় প্রকাশের নয়। তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে যে সংগ্রাম, ত্যাগ, কষ্ট-যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, তারই পুরস্কার পেয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গনের কথা যদি বলি, গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ক্রীড়াঙ্গনে যে দলীয়করণ, অযোগ্য লোক দ্বারা এটি পরিচালনা করেছে, সবার আগে সেসব নিয়ে কাজ অবশ্যই করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এ ছাড়া বিএনপি যে ক্রীড়ার জন্য ১০ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে, এর বাইরে আরও ১১-১২টি, সর্বমোট ২২-২৩টি পরিকল্পনা রয়েছে, সেসব নিয়েও কাজ করবেন আমিনুল ভাই। ক্রীড়াঙ্গন একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ পেয়েছে মন্ত্রী পেয়েছে, যা বিগত সময়ে দেখা যায়নি। বিএনপি এবং আমিনুল ভাইয়ের হাত ধরে আগামী ৫ বছরে ক্রীড়াঙ্গনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে এটা আমার বিশ্বাস এবং প্রত্যাশা।
শারমিন আক্তার রত্না
জাতীয় দলের সাবেক শুটার আমিনুল ভাই ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রথমে আমার পক্ষ থেকে অনেক অভিনন্দন-শুভেচ্ছা। এই প্রথম আমরা মন্ত্রী হিসেবে একজন প্রকৃত ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ পেলাম। আমিনুল ভাই মাঠের মানুষ, খেলার মানুষ। তিনি জানেন কীভাবে ক্রীড়াঙ্গনকে সাজাতে হবে। বিগত ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ক্রীড়াঙ্গনের যে ক্ষতি করে গেছে, ক্রীড়াঙ্গনে যে বারোটা বাজিয়েছে, সবার আগে সেসব নিয়ে ভাইকে কাজ করতে হবে।
ফেডারেশনগুলোতে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। আর সেটা যদি আমার ফেডারেশন শুটিং থেকে হয় তা হলে তো আরও ভালো। অযোগ্য লোক দ্বারা পুরো ক্রীড়াঙ্গন ভরে গেছে। আমার প্রত্যাশা থাকবে ভাই সেসব নিয়ে কাজ করবেন। আমিনুল ভাই একজন যোগ্য ও সৎ মানুষ। আমি এতটুকু প্রত্যাশা করব তিনি আমাদের ক্রীড়াঙ্গনকে জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন- প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যে রাঙাবেন।
এলিনা সুলতানা
জাতীয় দলের সাবেক শাটলার একজন সৎ, যোগ্য এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের মানুষ আমাদের আমিনুল হক ভাই। দীর্ঘদিন তাকে ক্রীড়াঙ্গনে আমরা দেখছি। আমি মনে করি একজন যোগ্য ব্যক্তির হাতেই আমাদের ক্রীড়াঙ্গনকে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মানে আগে যারা ছিলেন তারা যোগ্য ছিলেন না সেটা কিন্তু আমি বলছি না। আমি এতটুকু বলছি তিনি একেবারে খেলার মানুষ, মাঠের ও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ।
আমি শুধু আমাদের ব্যাডমিন্টন নয়, আশা রাখব এবং প্রত্যাশা করি আমিনুল হক ভাইয়ের হাত ধরে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন অনেক দূর এগিয়ে যাবে, অনেক সাফল্য বয়ে আনবে। আপনারা জানেন, আমি জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের একজন সদস্য। আমি কিন্তু আমিনুল ভাইকে দেখেই ক্রীড়াদলে নাম লিখিয়েছি। আমিনুল ভাই খেলোয়াড় থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন। গত ১৭ মাসে সরকারে না থেকেও আমিনুল ভাই অনেক কাজ করেছেন। সেই কাজের গতি সামনে আরও বাড়বে আমার বিশ্বাস।
সাদমান ইসলাম
জাতীয় দলের ক্রিকেটার আমিনুল ভাই আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের তারকা। ফুটবলার হিসেবে তিনি যেমন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের জন্য সাফল্য, সুনাম, খ্যাতি বয়ে এনেছেন, সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবেও তিনি তার জায়গায় সফল হবেন- এটা আমার বিশ্বাস এবং প্রত্যাশা। আমরা চাই ক্রিকেটটা যেমন উন্নতির পর্যায়ে রয়েছে, সেই ধারা যেন অব্যাহত থাকে। কারণ গত কিছু দিন ক্রিকেট নিয়ে অনেক ঝামেলা, সংকট তৈরি হয়েছে।
আমিনুল ভাইয়ের হাত ধরে সেসব দূর হবে। ক্রিকেট, ফুটবল, হকিসহ সব খেলা এগিয়ে যাবে। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগটা ঠিকমতো হয় না। আশা করি আমিনুল ভাই এদিকে নজর দেবেন। কারণ আমাদের ক্রিকেটারদের রুটি-রুজির অন্যতম উৎস হলো ঘরোয়া ক্রিকেট। আমিনুল ভাইকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি তবে তার সম্পর্কে আমরা অবগত। তিনি প্রকৃত অর্থে ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ। আমরা সৌভাগ্যবান তার মতো একজন মন্ত্রী পেয়েছি।
হাসান যুবায়ের নিলয়
জাতীয় হকি দলের সাবেক খেলোয়াড় সবার প্রথমে আমিনুল ভাইকে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা। আমরা ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে একজন যোগ্য এবং সৎ লোক পেয়েছি। প্রকৃত একজন ক্রীড়াঙ্গনের মানুষকে ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। আমার প্রত্যাশা থাকবে তার হাত ধরে আমাদের ক্রীড়া আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আর সাবেক হকি খেলোয়াড় হিসেবে আমার চাওয়া থাকবে কোনো সরকারই আমাদের হকি নিয়ে সেভাবে কাজ করেনি।
অথচ হকির রেজাল্ট অন্যান্য স্পোর্টসের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। হকির সাফল্য অনেক তবে নজর সেভাবে নেই। আমি চাইব হকি যেন মাঠে থাকে, খেলোয়াড়রা যেন নিয়মিত লিগটা পায়। আরেকটা চাওয়া থাকবে আমিনুল ভাইয়ের কাছে তিনি যেন একটি আন্তর্জাতিক মানের হকি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেন এবং সেটা আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার নামে। কারণ খালেদা জিয়ার নামে আমার জানামতে কোনো স্টেডিয়াম নেই।
সময়ের আলো/কেএইচও