২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের দিন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা। এ সময় কার্যালয়ের ভিতরে ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে কার্যালয়ে প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের অফিস তালাবদ্ধ ছিলো।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে এসে কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়। তালা খোলার পর সেখানে তারা কিছুসময় অবস্থান করে এবং দলীয় স্লোগান দেয়। পরে সেখানে একটি ব্যানার লাগিয়ে তারা চলে যায়।
নোয়াখালী পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাছিনা চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে পৌর মহিলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে ব্যানারটি মূল ফটকে লাগানো হয়। ব্যানারে লিখা রয়েছে ‘দীর্ঘ আঠারো মাস পর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় আজ থেকে অবমুক্ত করা হলো।’
স্থানীয় লোকজন জানান, ভোরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে মাইজদী টাউন হল মোড় সংলগ্ন জেলা কার্যালয়ের সামনে আসেন। প্রথমে তারা কার্যালয়ের তালা খুলে সেখানে অবস্থান নেন এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা কার্যালয়ের মূল ফটকে একটি ব্যানার লাগিয়ে চলে যান।
আরও পড়ুন
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ দ্বারা তারা বিভিন্ন হামলা, মামলা, জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার পর সেটিতে তালা দেওয়া হয়। অদৃশ্য কোন শক্তির নির্দেশে বা কার সহযোগিতায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টির তালা খুলেছে। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির আহবায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। জেলা বিএনপির সদস্য এ্যডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ জানান, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভোরে কয়েকজন লোক এসে আওয়ামী লীগের অফিসে সামনে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের নাম ও ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। পরে নাম প্রকাশ করা হবে।
এএডি/