জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দিয়েও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিভাগে তালা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিভাগের মূল ফটকে তালা দেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আর্থিক অনিয়মের সুস্পষ্ট অভিযোগসহ উপাচার্য ও বিভাগীয় প্রধান বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোন প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। তাই বাধ্য হয়ে বিভাগে তালা দিয়েছেন তারা।
জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে মধুপুর বনে বনভোজনের আয়োজন করা হয়। বনভোজন শেষে ফেরার পথে তিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী লক্ষ্য করেন তাদের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হয়েছে। একপর্যায়ে সবার ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করার দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।
একপর্যায়ে একজন শিক্ষিকার কাছ থেকে একটি কার্ড ও টাকা উদ্ধার হয়। যদিও তিনি শুরুতে দাবি করেন, তার কাছে শুধু ভিসা কার্ড ছিল, কিন্তু তল্লাশিতে টাকাও বের হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে অস্বস্তিতে পড়েন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমসহ বিভাগের সকল কার্যক্রম হতে বর্জনের ও বিরত রাখার দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা। এরই প্রেক্ষিতে গত ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধান এবং উপাচার্য বরাবর আবেদনপত্র জমা দেন।
এর আগেও পরীক্ষার ডিউটি প্রদানকালে অন্তত তিনটি ব্যাচ থেকে শিক্ষার্থীদের সামনে রাখা পার্স থেকে টাকা সরানো এবং ছাত্রদের ফিল্ডওয়ার্ক থেকে ট্যাক্সের নামে টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে উক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। বনভোজনে চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এমন অভিযোগ জানিয়েছেন বিভাগটির সাবেক শিক্ষার্থীরা।
ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা বলেন, সেমিস্টার পরীক্ষা চলাকালীন আমাদের ব্যাগ থেকে প্রায় সময় টাকা চুরি হত। আমরা একাধিক শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে আমাদের ব্যাগে হাত দিতেও দেখেছি। সম্প্রতি বনভোজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ব্যাগ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় তল্লাশি করা হলে উক্ত শিক্ষিকার কাছে অতিরিক্ত টাকা পাওয়া যায়। অথচ তল্লাশি করার পূর্বে তিনি ঐ পরিমাণ টাকার কথা উল্লেখ করেননি।
শিক্ষার্থী তকিব হাসান বলেন, আমরা বিভাগীয় প্রধান ও উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। আমরা অভিযুক্ত শিক্ষিকার ক্লাস বর্জন করেছি এবং এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির দাবি জানিয়েছি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ফোকলোর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আতিজা দীল আফরোজ বলেন, পিকনিক থেকে ফেরা পথে হঠাৎ এক শিক্ষার্থীর টাকা হারিয়েছে জানতে পারি। এরপর খেয়াল করে দেখি আমার ব্যাগ থেকেও ৬ হাজার টাকা হারিয়েছে। পরে তল্লাশি করা হলে একজন শিক্ষিকার কাছে চুরি হওয়া টাকা পাওয়া গেছে বলে জানায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত শিক্ষিকা। তিনি বলেন, এমন হীন বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছি না।
এফআর