রাশিয়ার ২৪তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও থিয়েটার উৎসব ‘আমুর অটাম’-এর আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদের পরিচালিত ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’ (সাঁকোটা দুলছে)। আগামী ১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়ার ব্লাগোভেশচেনস্ক শহরে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে।
পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’ তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক।
বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’ এবং জার্মানির ‘মগডোর ফিল্ম’র যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। এটি প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটিরও প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ৮১ মিনিটের সাদাকালো চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ-জার্মানি যৌথ প্রযোজনার একটি স্বাধীন চলচ্চিত্র।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক নির্মাণ যাত্রায় ভূমিকা রেখেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। তিনি সহযোগী প্রযোজক হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি পাকুয়েট চলচ্চিত্রটির কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মূলত গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন কিশোরীর জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। গল্পে ভয়, কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, সহিংসতা ও সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা তিন কিশোরীর সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গ্রামীণ বাস্তবতার আঙ্গিকে নারীর জীবন, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।
এ বিষয়ে ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, সাংহাইয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবে রাশিয়ান প্রিমিয়ারের সুযোগ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে গ্র্যান্ড প্রিক্সসহ ছয়টি অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারা নিঃসন্দেহে আনন্দের। আশা করছি, প্রিমিয়ারটি সুন্দর হবে এবং দর্শকরা চলচ্চিত্রটির থিমের সঙ্গে নিজেদের রিলেট করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং এর বিশ্বভ্রমণ আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করেছে, যা পরবর্তী চলচ্চিত্র নির্মাণের পথেও কাজে আসবে। আরও কয়েকটি বড় চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির অংশগ্রহণের খবর খুব শিগগিরই জানাতে পারব বলে আশা করছি।
এর আগে চলচ্চিত্রটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয় চীনের ২৮তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। উৎসবের ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন’ বিভাগে নির্বাচিত হয় বাংলাদেশের এই চলচ্চিত্রটি। সেখানে সিনেমাটোগ্রাফির জন্য চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রাহক সামিউল করিম সুপ্ত অর্জন করেন ‘গোল্ডেন গবলেট অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি’।
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, কিরগিজস্তান, কম্বোডিয়া, ইতালি ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি চলচ্চিত্র গ্র্যান্ড প্রিক্সসহ ছয়টি পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সময়ের আলো/আতা