ফ্রান্সে ফিলিস্তিনের প্রথম নারী কূটনীতিক লায়লা শহিদ ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে নিজ বাসভবনে শহিদের মৃত্যু হয়, লে মঁদ সংবাদপত্রের বরাতে এ তথ্য জানা যায়। তার বোন জেইনা এ বিষয়ে এএফপি নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, ‘আজ তিনি মারা গেছেন’, তবে অতিরিক্ত কোনো তথ্য জানাননি।
ফ্রান্সে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হালা আবু-হাসিরা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘লায়লা শহিদ, ফিলিস্তিনের আইকনিক রাষ্ট্রদূত, আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এটি ফিলিস্তিন এবং ন্যায়ের পক্ষে এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের উপদূত মাজেদ বামিয়া শহিদকে ‘ন্যায়, স্বাধীনতা ও শান্তির কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ফিলিস্তিনের প্রতীক। তিনি আমাকে কূটনৈতিক পদে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং নিজের জনগণের জন্য লড়াই করার মর্যাদা দেখিয়েছেন। আমি তার সঙ্গে কাজ করার, শেখার এবং তার উদারতা ও সহানুভূতি নিজ চোখে দেখার সৌভাগ্য পেয়েছি।
যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জুমলত শহিদকে ‘একজন অনন্য কূটনীতিক, অনুপ্রেরণার উৎস এবং ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী কূটনীতিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শহিদ ১৯৪৯ সালে লেবাননের বেইরুতে জন্মগ্রহণ করেন। আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় তিনি ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে পরিচিত হন। লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে কাজ করার পর, ১৯৮৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগঠন (পিএলও)-এর প্রথম নারী প্রতিনিধি হন। এরপর তিনি নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, ফ্রান্স এবং পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফ্রান্সের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, বাস্তবে ফিলিস্তিনের জন্য এখনও অনেক কাজ বাকি আছে, বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি এবং পশ্চিম তীরের উপনিবেশীদের সহিংসতার কারণে।
ফ্রান্সে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হালা আবু-হাসিরা বলেন, শহিদ কখনো ইসরায়েলি দখল নিয়ে চুপ ছিলেন না এবং সবসময় বিশ্বাস করতেন যে, ন্যায় শেষ পর্যন্ত সত্যের হবে। তিনি আরও জানান, তার স্মৃতিতে আমরা তার শুরু করা কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার জানাই। তার লড়াই, আমাদের লড়াই। তার দৃঢ় সংকল্প, আমাদের পথপ্রদর্শক। মর্যাদা, ন্যায় এবং সত্যের দাবিই আমাদের পথ মানচিত্র।
শহিদের মৃত্যু শুধু ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক সমাজকে নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলকেও শোকাহত করেছে। তার জীবন ও কর্ম ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে থাকবে।
/ইউএমএইচ