রমজানের প্রথম দিনে মোংলার পৌর শহরের প্রধান বাজারে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই অভিযান চলাকালে পাঁচ দোকানীকে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে বাজারে কয়েকশ দোকানের মধ্যে মাত্র ছয় দোকানে অভিযান চালানোকে ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযানটি জেলা প্রশাসকের তথ্য ও নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে।
ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, বড় বাজারে মাত্র ছয় দোকানে অভিযান করে প্রশাসন শুধুই লোক দেখানো করছে। এতে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া পণ্যের বাজারে কোন প্রভাব পড়েনি। অসাধু দোকানীরা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি করে ক্রেতাদের পকেট কেটে চলেছে। রমজান শুরুর আগে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।
পৌর শহরের বাসিন্দারা বলেন, ‘কয়েকশ’ দোকানের মধ্যে মাত্র পাঁচ দোকানে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এটা মস্কারা ছাড়া আর কি? এবং জরিমানার নাম করে প্রশাসন শুধু অভিযানকে হালাল করতে চাচ্ছে।
সাইফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, জরিমানা দেওয়ার পরও দোকানীরা নানা কৌশলে তাদের দণ্ডকৃত টাকা আবারও ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করছে।
আসমা বেগম নামে এক চাকরিজীবি নারী বলেন, এক-দুই দোকানে নয়, সকল দোকানে অভিযান চালানো উচিত এবং জরিমানার হার বেশি করা উচিৎ, যাতে পুনরায় কেউ এমন কাজ করতে সাহস না পায়।
নাসির উদ্দিন নামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, কাঁচা বাজার, মাছ, মাংস, মুরগী, মুদি ও ফল বাজার মিলিয়ে মোংলা শহরের প্রধান বাজারে কয়েকশ নিত্য পণ্যের দোকান রয়েছে। রমজানকে ঘিরে এখানে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এবং প্রায় সব দোকানে বিক্রির কোন মূল্য তালিকা নেই।
ক্রেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, রোজার আগে বেগুনের দাম ছিল ৩০ টাকা, এখন ৬০ টাকা; শসার দাম ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা; খেজুর ৭০০ টাকার বদলে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফল, সবজি, মাছসহ মুদি পণ্যের দাম বেড়েছে অত্যধিকভাবে।
অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আরিফ বলেন, মোংলা শহরে বৃহস্পতিবার দুপুরে কলার আড়ৎসহ পাঁচ দোকানীকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা ভোক্তা অধিকার আইনের ধারায় করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শহরে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কারো সঙ্গে আমাদের বিশেষ সখ্যতা নেই।
সময়ের আলো/আরবিএন