আজ পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম জুমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি রহমতের দশকের দ্বিতীয় রোজার দিনে পড়েছে, তাই বিশেষ বরকতময়।
ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ দিনের গুরুত্ব এত বেশি যে, কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সূরা ‘জুমা’ নামকরণ করা হয়েছে। কোরআনের ৬২ নম্বর সূরায় বলা হয়েছে, হে বিশ্বাসীরা! যখন জুমার দিন নামাজের জন্য ডাক পড়বে, তখন আল্লাহকে মনে রেখে তাড়াতাড়ি মসজিদে যাও এবং ব্যবসা-কেনাকাটা বন্ধ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। (সূরা জুমা, আয়াত: ৯)
রমজান মাসও ইসলামে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু রোজা রাখার মাস নয়, বরং ইবাদত ও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ এবং তাওবার জন্য বিশেষ সময়। এই মাসের প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি পায়। রমজানে প্রতিটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমান, আর প্রতিটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজ ইবাদতের সমান।
আজ জুমার দিন এবং পবিত্র মাহে রমজান একসঙ্গে হওয়ায় মুসলমানদের জন্য এই দিনটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এই দিনে কিছু বিশেষ আমল রয়েছে।
কোরআনে নির্দেশ রয়েছে যে, জুমার দিনে মসজিদে দ্রুত যাওয়া উচিত। হাদিসেও এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল বর্ণনা করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, হে মুমিনরা! জুমার দিনে নামাজের আজান হলে আল্লাহকে স্মরণ করে দ্রুত মসজিদে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। নামাজ শেষ হলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো এবং তাকে বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা জুমা, আয়াত: ৯-১০)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—রাসুল (সা.) বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত সময়কালে সমস্ত পাপ মাফ হয়, যদি ব্যক্তি বড় পাপ থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম শরিফ, হাদিস: ২৩৩)
অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, সঠিকভাবে পোশাক পরিধান করে, মসজিদে যায়, অন্যকে ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে না, ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং নামাজ সঠিকভাবে আদায় করে, তার সব গুনাহ মাফ হয়। (সহিহ বুখারি শরিফ, হাদিস: ৯১০)
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন আল্লাহ বান্দার প্রার্থনা কবুল করেন। তাই আছরের শেষ সময়ে প্রার্থনা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮; নাসাঈ, হাদিস: ১৩৮৯)
রমজানে রয়েছে শব-ই-কদরের রাত, যা বরকত এবং ফজিলতের দিক থেকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই মাসে রোজা ফরজ এবং রাতে ইবাদত নফল, তবে যে ব্যক্তি নফল ইবাদত করবে, তাকে অন্য সময়ের ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি রমজানে কোনো ফরজ আদায় করবে, তার জন্য অন্য সময়ের ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমান পুণ্য হবে। (বায়হাকি)
এই হাদিসগুলোর আলোকে বোঝা যায়, জুমার দিনের বিশেষ আমল সারা বছরই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, আর রমজানে সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই রমজানের জুমার দিনে নিম্নোক্ত আমলগুলো পালন করা উত্তম :
জুমার নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে গোসল করুন। দাঁত মিসওয়াক করুন, সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করুন এবং উত্তম পোশাক পরিধান করুন।
জুমার নামাজের জন্য দ্রুত মসজিদে পৌঁছান। ইমামের খুতবা শুরু হওয়ার আগে মসজিদে উপস্থিত হন এবং ইমামের কাছে বসার চেষ্টা করুন। দেরি হলে অন্যদের কষ্ট দিয়ে সামনের কাতারে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। খুতবার সময় কথা বলবেন না। অন্যকে চুপ থাকতে বলার প্রয়োজন হলে ইশারায় বুঝিয়ে দিন। উত্তমভাবে জুমার নামাজ আদায় করুন।
/ইউএমএইচ