স্মৃতিতে ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার ১৯১৯ সালের ১০ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম হাছেন

2026-02-20T22:07:12+00:00
2026-02-20T22:29:29+00:00
 
  রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬,
২১ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
স্মৃতিতে ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম  আপডেট: ২০.০২.২০২৬ ১০:২৯ পিএম
ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার। সংগৃহীত ছবি
ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার ১৯১৯ সালের ১০ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম হাছেন আলী ও মায়ের নাম সাফাতুন নেছা। তিনি স্থানীয় কৃষ্ণবাজার ধোপাঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। কিছুদিন বাবার কৃষিকাজে সাহায্য করেন। 

পনেরো বছর বয়সে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন আব্দুল জব্বার। এরপর এক ইংরেজ নাবিকের সঙ্গে রেঙ্গুন শহরে (বতর্মান মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন) গিয়ে জাহাজে কাজ শুরু করেন। একটানা ১২ বছর আব্দুল জব্বার রেঙ্গুনে কাজ করে ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে গ্রামে ফিরে আসেন। 

পরবর্তীতে আনসার ট্রেনিং নিয়ে নিজ গ্রামে আনসার কমান্ডার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৪৯ সালে আব্দুল জব্বার আমেনা খাতুনকে বিয়ে করে সংসারি হন। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আব্দুল জব্বার ক্যানসারে আক্রান্ত শাশুড়িকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সে সময় ঢাকায় রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে সোচ্চার ছাত্র-জনতার স্লোগানে মুখরিত রাজপথ। 

একুশে ফেব্রুয়ারি আব্দুল জব্বার মেডিকেল গেটের বাইরে শাশুড়ির জন্য ফল কিনতে গিয়ে দেখেন রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র-জনতার সমাবেশ। সে সময় যুবক আব্দুল জব্বার অসুস্থ শাশুড়ির জন্য ফল নেওয়ার কথা ভুলে গিয়ে ভাষার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সেই ঐতিহাসিক মিছিলে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে অনেকের সঙ্গে আব্দুল জব্বারও গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরপর ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বারকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। 

শহিদ আব্দুল জব্বারকে সরকার ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে। গফরগাঁওয়ের পাঁচুয়াতে ২০০৮ সালে ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। অনেক দর্শনার্থী এখানে বই পড়তে ও ঘুরতে আসেন। এখানে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও শহিদ জব্বারের নামে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বারে একমাত্র সন্তান নুরুল ইসলাম বাদলের জন্ম হয় ১৯৫০ সালে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শেষ করে ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় বসবাস করতেন। গত ২০২১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদল বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   ভাষাশহিদ  আব্দুল  জব্বার  অমর  একুশে 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: