দোকানঘর বরাদ্দ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকার ওপরে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিবের বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার হয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রামনগর বাজারে সরকারি খাস জমির ওপর ৩৬টি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব। দোকানগুলো বরাদ্দ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গোপনে ৮০ জনের কাছ থেকে নেন অন্তত ২ কোটি টাকা। সম্প্রতি নির্মাণকাজ শেষ হলে তা বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু করলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। সেখানে দেখা যায় এক দোকানের জন্য দুই থেকে তিনজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি। এক পর্যায়ে পছন্দের ৩৬ জনকে বরাদ্দ দেন চেয়ারম্যান। বাকি ৪৪ জনের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বহাল তবিয়তে।
ভুক্তভোগী বায়েজিদ মিয়া জানান, রামনগরের মানুষ সহজ-সরল। এদের দোকানঘর দেওয়ার প্রলোভন দেখান ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান। একটি দোকানের জন্য ২ থেকে ৪ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন চেয়ারম্যান। আমার কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে আমাদের কাছ থেকে কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। এখন বলতেছেন আপনারা বাজারের জন্য টাকা অনুদান দিয়েছেন। আমরা নিজেরাই হতদরিদ্র মানুষ। আমরা কীভাবে বাজারে অনুদান দেব।
সবুজ আমির নামে অপর ভুক্তভোগী বলেন, আমি এই বাজারে দীর্ঘ বছর ধরে মুরগির ব্যবসা করছি। চেয়ারম্যান আমার কাছে এখানে মার্কেট করার কথা বললে আমি তাকে ১০ জনের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নিয়ে দিই। মার্কেট নির্মাণের পর চেয়ারম্যান মাত্র দুজনকে দোকান দিয়েছে। বাকি ৮ জনকে দোকান দেননি, এমনকি টাকাও ফেরত দেননি।
আব্দুর রব মোল্লা বলেন, আমাকে দুটি দোকান দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে ৫ লাখ ৭৫ টাকা নেন। পরে দোকানের কাগজপত্র ও চাবি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। দেওয়ার পরে ওই দোকান আবার আরেকজনকে দিয়েছেন। এ নিয়ে ঝামেলা হলে তিনি আমাকে আরেকটি দোকান দেন। ওই দোকানে আমি রং করলে দুদিন পর তিনি আবার ওই দোকান অন্য একজনকে দিয়ে দেন। আমার কাছে চাবি চাইলে আমি দিয়ে দিই। আমার মতো আরও অনেক ভুক্তভোগী আছে। এখন চেয়ারম্যান আমাদের দোকানও দিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব প্রথমে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তারা স্বেচ্ছায় বাজারের উন্নয়নের জন্য দান করেছেন। পরে ভুক্তভোগীদের তোপের মুখে তিনি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপমা রায় বলেন, রামনগর বাজারটি সরকারি খাস জমির ওপর। সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক লেনদেন করতে পারেন না। ভুক্তভোগীরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ