৮০ নির্মাতার খোলা চিঠি, তীব্র ক্ষোভ

সময়ের আলো ডেস্ক

খেলা

ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। এই উৎসব সবার কাছে বার্লিনালে নামে পরিচিত। গাজা নিয়ে অবস্থানের কারণে

2026-02-21T01:47:02+00:00
2026-02-21T01:55:19+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ফিলিস্তিনবিরোধী তৎপরতা
৮০ নির্মাতার খোলা চিঠি, তীব্র ক্ষোভ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৭ এএম  আপডেট: ২১.০২.২০২৬ ১:৫৫ এএম
ফাইল ছবি
ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। এই উৎসব সবার কাছে বার্লিনালে নামে পরিচিত। গাজা নিয়ে অবস্থানের কারণে এই উৎসবটি এখন বিতর্কিত। ৮০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা খোলা চিঠিতে উৎসব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘সেন্সরশিপ’ ও ‘নীরবতা চাপিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে আছেন- টিল্ডা সুইনটোন, জ্যাভিয়ের বার্ডেম, মাইক লেইয়ের মতো পরিচিত মুখ। অভিযোগ, গত বছর যারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছিলেন, তাদের তিরস্কার করা হয়েছিল এবং একজনকে পুলিশের তদন্তের মুখেও পড়তে হয়েছিল।

এদিকে এবারের জুরি প্রধান উইম ওয়েন্ডারস মন্তব্য করেছেন, সিনেমা সরাসরি রাজনৈতিক হওয়া উচিত নয়। তার এই মন্তব্য আরও বিতর্ক উসকে দেয়। প্রশ্ন উঠেছে, চলচ্চিত্র কি রাজনীতির বাইরে থাকতে পারে, যখন বাস্তবতা নিজেই রক্তাক্ত? গাজার চলমান যুদ্ধ ও জার্মানির অবস্থান নিয়ে এই বিতর্ক এখন বার্লিনালের মঞ্চ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক শিল্প-রাজনীতির আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষরকারী নির্মাতারা দাবি করেছেন, বার্লিনালে গত বছর গাজা প্রসঙ্গে কথা বলা শিল্পীদের ‘আগ্রাসীভাবে’ সতর্ক করা হয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, ফিলিস্তিনি জনগণের জীবন ও স্বাধীনতার প্রশ্ন আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে তোলা হয়েছিল। কিন্তু উৎসব কর্তৃপক্ষ সেটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে আখ্যা দেয়। এই ঘটনাকে শিল্পীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে মানবিক সংকট নিয়ে কথা বলাই স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন

বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন জুরি প্রধান উইম ওয়েন্ডারস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চলচ্চিত্রকে রাজনীতির বাইরে থাকতে হবে। তার যুক্তি ছিল, সিনেমা মানুষের কাজ করবে, রাজনীতিকদের কাজ নয়। কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন, এই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। কারণ ইতিহাসে বার্লিনালে বরাবরই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালে উইম ওয়েন্ডারস নিজেই বলেছিলেন, এই উৎসব সবসময়ই রাজনৈতিক ছিল। ফলে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেকে পরস্পরবিরোধী বলছেন।

বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায়। তিনি উৎসব থেকে নিজের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করেন। অন্যদিকে একটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানে তিউনিসীয় নির্মাতা কাওথার বেন হানিয়া পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তার বক্তব্য ছিল, গাজায় যা ঘটছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর সহিংসতার অংশ। তিনি বলেন, শান্তি কখনোই সহিংসতার ওপর সুগন্ধি ছিটিয়ে দেওয়া নয়। এই বক্তব্য উপস্থিত অনেককে নাড়া দেয়।

গাজা ইস্যুতে বার্লিনালের বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৪ সালে ইসরাইলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও ফিলিস্তিনি সহ-নির্মাতা বাসেল আদরার প্রামাণ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ পুরস্কার জেতার পরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পুরস্কার গ্রহণের সময় আব্রাহাম বলেন, তিনি নাগরিক আইনের অধীনে বাস করেন, কিন্তু বাসেল সামরিক আইনের অধীনে। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে জার্মান রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা হয়। পরে ছবিটি অস্কারও জেতে।

এবারের খোলা চিঠিতে শিল্পীরা বলছেন, একটি চলচ্চিত্র উৎসব যদি সমসাময়িক মানবিক সংকট নিয়ে শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করে, তবে সেটি শিল্পের আত্মাকে আঘাত করে। তাদের দাবি, নীরবতা কখনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং তা একটি অবস্থান। বিশেষ করে যখন গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর প্রতিদিন আসছে, তখন শিল্পীদের নীরব থাকতে বলা মানে তাদের মানবিক দায় অস্বীকার করা।

বার্লিনালে কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সব অভিযোগের জবাব দেয়নি। তবে বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই। ২শর বেশি চলচ্চিত্র নিয়ে চলা এই উৎসব এখন এক জটিল প্রশ্নের মুখে- শিল্প কি শুধুই নান্দনিকতার বিষয়, নাকি নৈতিক অবস্থানেরও? গাজার যুদ্ধ যেমন বিশ্ব রাজনীতিকে বিভক্ত করেছে, তেমনি বিভক্ত করেছে শিল্পজগৎকেও। আর এই বিতর্ক হয়তো প্রমাণ করছে, সিনেমা কখনোই পুরোপুরি রাজনীতির বাইরে থাকতে পারে না।

এএডি/


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: