আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহিদ দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতারা। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পেরিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা এই শ্রদ্ধা জানান।
তবে এ কর্মসূচি নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি ডাকসুর সব সদস্যকে আগে থেকে জানানো হয়নি। এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমাসহ কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধি।
সর্বমিত্র চাকমা অভিযোগ করে বলেছেন, তাকে এবং আরও কয়েকজন সদস্যকে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইভ থেকে জানতে পেরেছেন যে, শহিদ মিনারে ডাকসু শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others (এবং অন্যরা) আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলতে জানলাম ডাকসু শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’
অন্যদিকে, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চ নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে ডাকসুর সবার জন্য নিরাপত্তা পাশ নিশ্চিতে গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেন। শুক্রবার রাতেই দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, শহিদ মিনারে প্রথম প্রহরে ডাকসু কখন ফুল দিতে যাবে- প্রশ্ন দুইবার করার পর কল দিয়ে আমাকে জানানো হয়, সিনেট সদস্যরা যাবে কেবল রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে। সিলেক্টিভ পাস। ফাইন। কিন্তু একটু পর দেখি, এই সিলেক্টিভ পাস একটি দলের ইউনিয়ন লেভেলের কর্মীদেরও আছে। নাই কেবল ডাকসুর। ডাকসুর এটা কেমন গাফিলতি, আমি জানি না।
তিনি লেখেন, প্রভাতফেরির আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় করে। সেইটার চিঠি আসে কেবল ভিপি, জিএস, এজিএসের কাছে। এই মেসেজ কনভে করার প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করেনি। গ্রুপে জিজ্ঞেস করার পরেও না। পরে আমি কল দিয়ে জেনে গ্রুপে নোটিশ দিলাম। দেখা যাক, কে কে আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে ফুল দিবে সিনেটের সদস্যরা মিলে— এমন প্ল্যান হলে গ্রুপে জানাতেন। অথবা সেখানে পরে সকলের জন্য এন্ট্রি এক্সেস থাকলে বাকিদের গ্রুপে বলে দিতেন যে, এই টাইমে আমরা ফুল দিব, উপস্থিত থাকবেন। সমস্যা তো ছিল না। আপনারা ডাকসুর নাম না নিয়ে ‘সিনেট সদস্যবৃন্দ’ ব্যানারে গেলেও মানুষ বাকি সম্পাদকদের দোষ খুঁজতো না।
তিনি আরও বলেন, একে তো প্রশাসনিক কারণে সকলের উপর চাপ। সেই পথ যখন স্বয়ং ডাকসু প্রতিনিধিরা সুগম করে, তখন বাকিদের যাওয়ার জায়গা থাকে না। এইসব কিছু গ্রুপে বলে আলাপ করে মিটানো যায়। গ্রুপে মিটিংয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর ক্যাঁচাল লাগার আগে কেউ দেয় না।
সবশেষে ফাতিমা তাসনিম জুমা উল্লেখ করেন, ডাকসু আমার কাছে শিক্ষার্থীদের আমানত। সম্পাদক হিসেবে আমার দায় আছে শিক্ষার্থীদের কাছে। আমার কাছে শিক্ষার্থীরা জবাব চাইলে আমি দিতে বাধ্য। তবে এই জবাব আমারও দিতে সুবিধা হতো ভিপি-জিএস-এজিএস ব্যাপারগুলো আরো সহজ করলে। আমার এসব সিলি ইস্যুতে কথা বলা লাগতো না আর।
কমনরুম, রিডিংরুম এবং ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা জুমার ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে লেখেন, প্রোগ্রামের পর জানতে পারি প্রোগ্রামে আমাদের দাওয়াত ছিল, ভিপি জিএস এজিএস চিঠি পেয়ে জানানোর দরকার মনে করে না। ডাকসুর পেইজে পোস্ট দেখে জানতে পারি ডাকসু কোন প্রোগ্রামে গেছে। উচ্চ পর্যায়ের মিটিং বা মন্ত্রণালয়ের পাস থাকে সিলেক্টিভ কিছু প্রতিনিধির কাছে। আমি যেটুকু কাজ করেছি, সবগুলো নিজের একার প্রচেষ্টায়। এখনো দৌড়াচ্ছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পিছে কাজের জন্য।
তিনি আরও লেখেন, আল্লাহ ভরসা করে দৌড়াচ্ছি। ডাকসুতে আসার আগে একটা রাজনৈতিক পদ তৈরি করে নিলে বোধ হয় এত কষ্ট হতো না। খালি সবাই বলে চুপ থাকো। নিজেরা সমাধান করো, তারা জানে না, নিজেদের মধ্যে অনেক বার বলছি, কানেও তুলে না সেসব মানুষের জানা উচিত।
সময়ের আলো/জেডআই