অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক অনন্য আবহে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সর্বস্তরের মানুষ।
বিশ্বের ৫২টি ভাষার বর্ণমালায় অলঙ্কৃত তেঁতুলিয়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি এ দিন দর্শনার্থী ও শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের মাঝে এক ভিন্নতর আবেদন তৈরি করে।
শুক্রবার দিবাগত রাতের প্রথম প্রহরে তেঁতুলিয়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রেস ক্লাব, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
তেঁতুলিয়ার এই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি দেশের অন্যান্য শহিদ মিনার থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য মাথায় রেখে এখানে বিশ্বের ৫২টি দেশের ভাষার বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়েছে। শহিদ মিনারটিতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ফার্সি, হিন্দি, জাপানি, কোরিয়ান, গ্রিক, রাশিয়ান, থাইসহ ৫২টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষার বর্ণমালা খোদাই করা হয়েছে।
জানা যায়, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহার পরিকল্পনায় এই নান্দনিক শহিদ মিনারটি নির্মিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সকল ভাষাভাষী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষার পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যান্য ভাষা সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলা।
শহিদ মিনারে আসা শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা জানান, প্রতি বছর এখানে এসে তারা কেবল ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাই জানান না, বরং দেয়ালে খোদাই করা বিচিত্র সব ভাষার বর্ণমালা দেখে বিশ্ব নাগরিকত্বের এক বিশেষ অনুভূতি লাভ করেন।
এক শিক্ষার্থী বলেন, একই সঙ্গে এতগুলো ভাষার বর্ণমালা দেখে আমরা অবাক হই। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর সব মাতৃভাষাই সম্মানের।
ভাষা দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোরে প্রভাতফেরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী এবং শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা। সন্ধ্যায় ভাষা শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালনের কর্মসূচিও রয়েছে।
তেঁতুলিয়ার এই ‘বিশ্ব বর্ণমালা’ খচিত শহিদ মিনারটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি এখন বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং বিশ্বজনীন ভাষাপ্রীতির এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন